গোয়াহারি বিলে পলো উৎসব, স্মৃতি রোমন্থনে প্রবীণরা

পলো বাওয়া উৎসব- হয়ে গেলো সিলেটের বিশ্বনাথ ইউনিয়নের গোয়াহারি বিলে। পৌষ সংক্রান্তির পর পরই এ উৎসব হয় বিশ্বনাথে। প্রায় দু’শ’ বছর ধরে চলা এই উৎসবে যোগ দেন ১৪/১৫টি গ্রামের শত শত মানুষ। গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কিছুটা হলেও ধরে রাখার চেষ্টা আয়োজকদের।

সিলেট থেকে দিপু সিদ্দিকীর রিপোর্ট।

পলো, মাছ ধরার অন্যতম হাতিয়ার বা উপকরণ। যা এক সময় মাছে-ভাতে বাঙালির ঘরে ঘরে একটা, দু’টো থাকতোই। কালের বির্বতনে এসব ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। কিন্তু হাওড়-বিলের অঞ্চলে এখনও অল্প বিস্তর এসব দেশীয় সরঞ্জামের দেখা মিলে। কোথাও কোথাও পলো, ঠেলা জাল, কুনি জাল নিয়ে এখনও মাছ ধরার প্রতিযোগিতায় নামেন ছোট-বড় অনেকেই। এরকম আয়োজনে যুক্ত হতে পেরে খুশি নতুন প্রজন্মরা।

শুকনো মৌসুমে শুকিয়ে পড়ে হাওর ও বিলের পানি। তখন দলবেধে পলো দিয়ে মাছ শিকারে নামে গ্রামের মানুষজন। মাঘ মাস জুড়ে সিলেটের বিশ্বনাথের বিভিন্ন বিলে ঘটা করে করা হয় এই পলো বাওয়া উৎসব। এরকমই একটি উৎসব হয়ে গেলো বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহারি গ্রামের দক্ষিণের বড়-বিলে। এ উৎসবে মাতেন নারী-পুরষ, ছেলে-বুড়ো সবাই। দূর-দূরান্ত থেকে তা দেখতেও আসেন অনেকে। বুড়োরা পুরোনো স্মৃতি মনে করে যারপরনাই আহ্লাদিত হয়েছেন।

 

কেউ কেউ আবার এই প্রথম দেখেছে মাছ ধরার ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবটি। তাই তাদের যেন খুশি ধরে না। বলেন, ইতিহাস-ঐতিহ্যকে লালন করা জরুরি। পরবর্তী প্রজন্মকে নিজের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ভালোভাবে জানানো আরো জরুরি।

বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহারি গ্রামের মানুষ প্রায় দুশ’ বছর ধরে এ সংস্কৃতিকে লালন করছেন। প্রতি বছর মাঘ মাসের প্রথম দিন কিংবা দ্বিতীয় দিন ‘পলো বাওয়া’ উৎসব পালন করেন তারা। তবে এবছর পহেলা মাঘ শুক্রবার হওয়ায় শনিবার হয় উৎসবটি।

You may also like

জিয়াউর রহমানের অবস্থান স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাসের ক্ষুদ্র জায়গায় : কৃষিমন্ত্রী

পাকিস্তানের এ দেশীয় দোসর ও তাঁবেদাররা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা