রোজার আগেই পাপুলের আসনে নির্বাচন: কবিতা খানম

রোজার আগেই পাপুলের আসনে নির্বাচন: কবিতা খানম

কুয়েতে দণ্ডপ্রাপ্ত লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের আসনে রোজার আগেই নির্বাচন হতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম। তিনি বলেন, তার (পাপুল) সংসদ সদস্য পদ বাতিলের চিঠি পেয়েছি। এ বিষয়ে কমিশন একটি বৈঠক করবে। কোনো সংসদীয় আসন শুন্য ঘোষিত হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যেই হতে হবে।

মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি। সামনে রোজা এবং ঈদ আছে এর আগেই নির্বাচন করা সম্ভব কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “রোজাটা অবশ্যই আমাদের বিবেচনায় আছে। রোজার সময়ে সাধারণত কোনো নির্বাচন দেয়া হয় না। এটাও সম্ভবত দেয়া হবে না। ঈদের পরে নির্বাচন করলে ৯০ দিন পাড় হয়ে যাচ্ছে কিনা সেই হিসাবটা করে দেখার বিষয় আছে। সেক্ষেত্রে রোজার আগেই নির্বাচন করার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কিন্তু কমিশন নিবে।”

গতকাল সোমবার ফেব্রুয়ারি সংসদ সচিবালয় পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে ২৮ জানুয়ারি থেকে তার সংসদ সদস্য পদ শুন্য দেখানো হয়েছে। সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কুয়েতে ফৌজদারি অপরাধে চার বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ায় লক্ষ্মীপুর-২ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদ থাকার যোগ্য নয়। সেই কারণে সংবিধানের ৬৭ (১) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রায় ঘোষণার তারিখ ২৮ জানুয়ারি হতে তার আসন শূন্য হয়েছে।

অর্থ ও মানবপাচারের মামলায় গত ২৮ জানুয়ারি পাপুলকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন কুয়েতের আদালত। পাশাপাশি তাকে ১৯ লাখ কুয়েতি দিনার বা ৫৩ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়। গত বছরের ৬ জুন রাতে কুয়েতের বাসা থেকে পাপুলকে আটক করা হয়। আটকের সাড়ে সাত মাস এবং বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর সাড়ে তিন মাসের মাথায় দণ্ডিত হন তিনি।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না, যদি- (ক) কোনো উপযুক্ত আদালত তাকে অপ্রকৃতিস্থ ঘোষণা করে,(খ) তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার পর দায় হতে অব্যাহতি না পেয়ে থাকেন, (গ) তিনি যদি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন, (ঘ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং মুক্তির পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে মুক্তি পাওয়ার পর পাঁচ বছর পর্যন্ত তিনি আর সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য বিবেচিত হন না।

 

বিভি/এইচকে/এনজি

You may also like

স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছে নয় বিশিষ্টজন ও এক প্রতিষ্ঠান

দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার এবারের স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন