সারা দেশের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

সারা দেশে প্রবল বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতি এখনো অবনতির দিকে। বেড়েছে সুরমা, ধরলা ও তিস্তার পানি। গেলো ক’দিন ধরে পানিবন্দি বহু গ্রামের মানুষ। কমপক্ষে হাজারো পরিবার ঠাঁই নিয়েছেন আশ্রয়শিবিরে। খাবার পানি ও ত্রান সংকটে দূর্গতরা। লালমনিরহাট জেলার প্রায় সবকটি নদীর পানিবৃদ্ধি অব্যাহত। বিপদসীমা ছুঁইছুঁই ধরলার পানিও। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। পানিবন্দী ১৯টি ইউনিয়নের ৬০টি গ্রামের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা কুটিরপাড়ে বাঁধ ভেঙ্গে তিস্তার পানিতে ভেসেছে লোকালয়। ডুবেছে ঘর-বাড়ী ও আবাদি জমি। গবাদি পশুসহ অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন সরকারি রাস্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধে। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে চরম অমানবিক পরিস্থিতে পড়েছেন দুর্গতরা।
এদিকে, খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস নেই। বুধবার থেকে পানিবন্দি ২৫ গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ। ১২টি আশ্রয় শিবিরে উঠেছে তিন শতাধিক পরিবার। এখনো বিচ্ছিন্ন দীঘিনালার সাথে রাঙামাটির লংগদুর সড়ক যোগাযোগ। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে চরম অবনতি হয়েছে বান্দরবানের পরিস্থিতি।

বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। সড়কের বিভিন্ন স্পট তলিয়ে বুধবার থেকে বিচ্ছিন্ন সারাদেশের সাথে সড়ক যোগাযোগ। পাহাড় ধসে সাত উপজেলার অভ্যন্তরীন রাস্তাগুলোও বন্ধ রয়েছে। সুনামগঞ্জে গত পাঁচ দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। সুরমা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে। আকস্মিক এই বন্যায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন জেলার লক্ষাধিক মানুষ। বন্যার কারণে বন্ধ রয়েছে প্রায় তিনশ’ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ৬টি পয়েন্ট দিয়ে পাড় উপচানো পানি সুনামগঞ্জ শহরে ঢুকে প্লাবিত হচ্ছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলো। কুড়িগ্রামেও বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে নদী তীরবর্তী চরের নিম্নাঞ্চল। দ্রুত গতিতে পানি বাড়ার পাশাপাশি তীব্র রূপ নিয়েছে নদ-নদীর ভাঙন। বন্যা মোকাবেলায় যথাযথ পদক্ষেপ এবং পর্যাপ্ত ত্রাণের দাবি জানিয়েছেন দুর্গতরা।

You may also like

১৭ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার ২০১৯

বেলা ১২:০৫ : বাংলা সিনেমা বিকেল ৫:০০ :