শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅস্টমীতে পালিত হলো কুমারী পূজা

মাতৃভাবে কুমারী কন্যাকে জীবন্ত প্রতিমা করে তাতে জগজ্জননীর উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করাই কুমারী পূজা। রামকৃষ্ণ মিশনে পালিত হলো এ বছরের কুমারী পূজা। এবারের কুমারী কন্যা হয়েছেন প্রশংসা প্রিয়তা বন্ধ্যোপাধ্যায়। শাস্ত্রমতে পাঁচ বছর বয়সী কুমারীর নামকরণ করা হয় সুভগা। ভক্তদের মতে, কুমারী পূজা একাধারে ঈশ্বরের উপাসনা, মানববন্দনা আর নারীর মর্যাদার প্রতিষ্ঠা। বিরামহীন ঢাকের আওয়াজের সঙ্গে থেমে থেমে বেজে উঠছে ঘণ্টা আর কাঁসার শব্দ আর নানা বয়সের নারীদের ভক্তিভরা উলুধ্বনি। এরই মাঝে মণ্ডপে অধিষ্ঠিত হলেন ‘কুমারী মা’। হাজারো ভক্ত জয়ধ্বনি দিয়ে বরণ করে নেন ‘কুমারী মা’ প্রশংসা প্রিয়তা বন্দোপাধ্যায়কে।

লাল টুকটুকে বেনারসি শাড়ি পরে আসা প্রিয়তার উৎসুক চোখেমুখে ছিলো ভীতিভরা আনন্দ। ১৬ টি উপকরন দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিক সূত্রপাত। এরপর অগ্নি, জল, বস্ত্র, পুষ্প ও বাতাস এই পাঁচ উপকরণে দেওয়া হয় কুমারী মায়ের পূজা। অর্ঘ্য প্রদানের পর দেবী মায়ের গলায় পরানো হয় পুষ্পমাল্য। পূজা শেষে প্রধান পূজারী দেবীর আরতি নিবেদন করে দেবীকে প্রনাম করা হয়।  শাস্ত্রমতে, কুমারী পূজার উদ্ভব হয় কোলাসুরকে বধ করার মধ্য দিয়ে। কোলাসুর এক সময় স্বর্গ-মর্ত্য অধিকার করায় বাকি বিপন্ন দেবগণ মহাকালীর শরণাপন্ন হন। সে সকল দেবগণের আবেদনে সাড়া দিয়ে দেবী পুনর্জন্মে কুমারীরূপে কোলাসুরকে বধ করেন। এরপর থেকেই মর্ত্যে কুমারী পূজার প্রচলন শুরু হয়। কুমারীতে সমগ্র মাতৃজাতির শেষ্ঠ শক্তি। কুমারী প্রতীকে জগজ্জননীর পূজাতে পরম সৌভাগ্য লাভ হয়, এমন বিশ্বাস হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের।

 

You may also like

ভারতের সাথে সুসম্পর্কের কোনো টানাপোড়েন চায় না বাংলাদেশ: কাদের

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন বিলের বিষয়টি সরকার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ