করোনার প্রাদুর্ভাবে সীমিত পরিসরে চলছে হজ

আজ পবিত্র হজ। লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বণিতে প্রকম্পিত ইসলাম ধর্মের জন্য পবিত্রতম ভূমি মক্কা ও মদীনা। তবে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে স্বাস্থ্য ঝুঁকির শঙ্কাকে গুরুত্ব দিয়ে খুবই সীমিত পরিসরে পালন হচ্ছে ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের গুরুত্বপূর্ণ এই আনুষ্ঠানিকতা। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশ নিয়েছেন খুবই স্বল্প সংখ্যক মুসল্লি।  হজে অংশগ্রহণেচ্ছু বিশ্বের লাখো মুসল্লির চাপাকষ্টের মধ্যে দিয়ে পালন হচ্ছে এবারের হজ। প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ লাখ মুসল্লি অংশ নিলেও বৈশ্বিক মহামারি করোনার হানায় এবার ওলট-পালট সব। বিশেষ পরিস্থিতিতে নিবন্ধিত ১০ হাজারের মধ্যে হজ করছেন সৌভাগ্যবান এক হাজার মুসল্লি। যাদের বয়স ২০ থেকে ৫০-এর মধ্যে। ৯ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায়ের পর মিনা থেকে ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে রওয়ানা হন মুসল্লিরা। যেখানে বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এদিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করা হজের তিনটি ফরজের মধ্যে অন্যতম।

জোহরের ওয়াক্তে মসজিদে নামিরাহ থেকে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ’র জন্য খুতবা দেন প্রখ্যাত আইনজ্ঞ শেখ আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আল মানিয়া। দোয়া করেন মহামারি থেকে মুক্তি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণের জন্য। জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে আদায় শেষে সূর্যাস্ত হলে মিনায় যাবার পথে মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন হাজীরা। সেখানেই ইবাদত বন্দেগিতে রাত কাটাবেন খোলা আকাশের নীচে। ১০ জিলহজ হাজিরা মিনায় ফিরে জামারায় পাথর ছুঁড়বেন প্রতীকী শয়তানের উদ্দেশে। বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এবার জীবাণুমুক্ত প্যাকেটজাত পাথর সরবরাহ করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এরপর হাজিরা পশু কোরবানি দিয়ে মাথার চুল ফেলে ইহরাম খুলবেন। কাবা শরীফ তাওয়াফের জন্য যাবেন মক্কায়। তাওয়াফ শেষে হেরেম শরিফ সংলগ্ন দু’টি পাহাড় সাফা-মারওয়ার মাঝে দৌঁড়াবেন বা সাঈ করবেন। ১১ ও ১২ জিলহজ মিনার তাঁবুতে অবস্থান করেই জামারায় পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে শেষ হবে হজের সব আনুষ্ঠানিকতা। এদিকে, বৃষ্টির মধ্যেই নতুন গিলাফে মোড়ানো হয়েছে পবিত্র কাবা শরীফ। ১৪ মিটার দৈর্ঘের নতুন এই গিলাফটি তৈরি হয়েছে রেশমি কাপড়, স্বর্ণ ও রূপার নিখুত বুননে।

You may also like

২৯ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার ২০২০

সকাল ৮:৩০ : অনুষ্ঠান ‘দিন প্রতিদিন’। বেলা ১১:০২