২৭ ও ২৮ জানুয়ারি ঢাকায় এবং দেশব্যাপী প্রগতিশীল ছাত্রজোটের বিক্ষোভ

আগামী ২৭ জানুয়ারি ঢাকায় এবং ২৮ জানুয়ারি দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট।অরাজনৈতিক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি চালু এবং দুই শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ ও তিন শিক্ষকের শাস্তি বাতিলের দাবিতে দুইদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।

সোমবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। প্রগতিশীল ছাত্র জোটের সমন্বয়ক আল কাদেরী জয় এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় তারা।

সংবাদ সম্মেলনের আংশিক বক্তব্য তুলে ধরা হলোঃ ২০২০ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরাবর অস্বাভাবিক বেতন বৃদ্ধির হার কমানাে, আবাসন সংকট নিরসন, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অবকাঠামাে নির্মাণ এবং শিক্ষার্থী বিষয়ক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তকরণ ও অবহিতকরণ এই ৫ দফা দাবি জানায়। এই পাঁচটি দাবি কর্তৃপক্ষ বরাবর জানানাের পর আশানুরূপ কোনাে ফল না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকিছু শিক্ষক শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর সাথে একাত্মতা পােষণ করেন। প্রশাসনও এই দাবিগুলাে মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন, যদিও পরবর্তীতে সেসব দাবি পূরণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনাে অগ্রগতি দেখা যায় না। দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস প্রদানের মাধ্যমে প্রশাসন নিজেই তাদের আন্দোলনের ন্যায্যতা ও যৌক্তিকতা স্বীকার করে নিয়েছে। কিন্তু আন্দোলনের চাপ কমতে না কমতেই তারা স্বৈরাচারী কায়দায় শিক্ষার্থীদের কথা বলার অধিকারের টুটি চেপে ধরে।

আন্দোলন চলাকালে প্রশাসনিক ভবন অবরােধের সময় দু’জন শিক্ষক গাড়ী নিয়ে অবরােধ উপেক্ষা করে যেতে চাইলে সেখানে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনায় শিক্ষকের সাথে অসদাচরণের ভুয়া অভিযােগ আনা হয় এবং ঘটনার দেড় মাস পর তিনজন শিক্ষার্থীর কাছে তাদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযােগ কি তা জানতে চায় ও তাদের জবাব লিখিতভাবে দেবার সুযোগ চায়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের সে সুযােগ থেকে বঞ্চিত করে। একইভাবে ঘটনার ৯ মাস পর আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে বেছে বেছে চারজন শিক্ষকের নামে উসকানি দেবার অভিযোগ এনে শোকজ করে কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানানাের অপরাধে (!) শিক্ষক আবুল ফজলকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং অন্য দু’জন শিক্ষক শাকিলা আলম ও হৈমন্তী শুক্লা কাবেরীকে অপসারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট।

বহিষ্কার হওয়া দু’জন শিক্ষার্থী তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য অনশনে যায়। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। ইতােমধ্যেই আমরা দেখেছি, সামাজিক যােগাযােগ মাধ্যম ও প্রচার মাধ্যমে এসেছে কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিক্ষার্থীদের কল রেকর্ড ফাঁস করে দেবার হুমকি দিচ্ছেন। একজন উপাচার্য কোনাে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য নন এবং কারাের ব্যক্তিগত ফোনের কল রেকর্ড তার কাছে থাকাটা সম্পূর্ণ রূপেই আইনের লঙ্ন এবং ব্যক্তিগত গােপনীয়তা হস্তক্ষেপ। এ ধরনের হুমকি একজন উপাচার্য, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক সুলভ, তার মুখে শােভা পায় না। উপাচার্য নামক সম্মানের চেয়ারটিকে তিনি কালিমালিপ্ত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় হবে মুক্ত বুদ্ধির চর্চার জায়গা। যেখানে নানা বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের মতামত জানাবে, শিক্ষকদের সাথে তাদের নানা ধরনের মিথস্ক্রিয়ার আয়ােজন থাকবে, গবেষণার জন্য একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকবে এবং সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ হবার, সংগঠিত হবার অধিকার থাকবে। আজকে সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলাের স্বায়ত্বশাসনের ওপর শাসকগােষ্ঠী চরম আঘাত হানছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে শাসক গােষ্ঠীর অনুগত লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে তৈরি করার চক্রান্ত করছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল গণতন্ত্রমনা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী, কর্মকর্তাকে আহ্বান জানাই, এই চক্রান্ত রুখে দিন, নিজেদের প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্বশাসন ও গণতান্ত্রিক অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার রক্ষার দাবিতে সােচ্চার হােন।

আমাদের দাবিসমূহ:

১. আন্দোলনরত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ ও শিক্ষকদের বরখাস্ত ও অপসারণের আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে।

২. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ৫ দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।

৩. বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংস ও ছাত্র রাজনীতি বন্ধের চক্রান্ত বন্ধ কর।

You may also like

বাইডেন-ট্রুডো’র প্রথম বৈঠক

প্রথমবারের মতো বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন