তরুণ শিক্ষার্থীদের ভাবনায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

‘হাসান ওয়ালী’

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি। ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু গড়া-এ ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি। সত্যিই তাই; ঊনসত্তর বছরেও সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারদের রক্তের দাগ মিলিয়ে যায়নি। বরং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যেমন অনুপ্রেরণা হয়ে ধরা দিয়েছিলো, আজও তরুণদের মানসপটে একুশ সদা জাগ্রত। রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবহ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস নিয়ে কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষার্থীর ভাবনা তুলে ধরেছেন হাসান ওয়ালী।

‘বাংলা ভাষার চর্চাকে আরও শাণিত করতে হবে’

ছবি: নাসিমুল হুদা, তৃতীয় বর্ষ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আমার মাতৃভাষা আমার জীবনের অংশ, অস্তিত্বের স্মারক। মা যেমন তাঁর সন্তানকে আগলে রেখে বড় করে তোলেন, ভাষাও তেমনি মাতৃসম স্নেহে সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্যকে বুকে ধরে সমৃদ্ধ করে তোলে। মায়ের ভাষা রক্ষার তাগিদে বায়ান্ন-তে বাংলার তরুণ যুবারা রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন, বৈশ্বিক স্বীকৃতিও মিলেছে তার। কিন্তু সত্যিই কি আমরা আমাদের পূর্বসূরীদের রক্তের সংগে সুবিচার করতে পেরেছি? আজ সমাজ-রাষ্ট্রের পরতে পরতে বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চার বিষয়টি অবহেলিত। বিদেশি ভাষার চোখ রাঙানি তো আছেই। এর শেষ কোথায়? একুশ শতকে এসে যদি বাঙালি জাতিকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করতে হয়, তাহলে সর্বাগ্রে বাংলা ভাষার চর্চা আরও শাণিত করতে হবে। এজন্য দায়িত্বশীলদের অনুধাবন করতে হবে- বাংলার সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব। অমর একুশের এই ক্ষণে আমাদের প্রত্যাশা, মাতৃভাষার গুরুত্ব উপলব্ধি কোনো বিশেষ দিনের শিকলে বাঁধা না পড়ুক, মুক্তি পাক কর্পোরেট উদযাপনের নিগড় থেকে। বছর জুড়ে, সর্বত্র বাংলা ভাষার বিশুদ্ধ চর্চা শুরু হোক।

‘নতুন প্রজন্মকে বাংলিশ থেকে শুদ্ধ বাংলায় ফিরতে হবে’

ছবি: ফারহানাহ সানজিদাহ, তৃতীয় বর্ষ, আইন বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

যে ভাষা আন্দোলনের হাত ধরে স্বাধীনতার সূচনা, সেই ভাষা আন্দোলনের চেতনা আজ তথাকথিত আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে। ইলেকট্রনিক মাল্টিমিডিয়ার যুগে যেখানে একুশের চেতনার বিস্তার হওয়ার দরকার ছিলো, তা এখন অনেকটা দিবস পালনেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। যে দিবসের প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং এই গৌরবমণ্ডিত ইতিহাস মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া- তা এখন কালের বিবর্তনে অনেকটাই সাদা-কালো পোশাকের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়, যখন দেখি অকারণেই অন্য ভাষায় কথা বলা কিংবা বাংলাকে বিকৃত করে বলা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। চেতনায় আজ বাঙালি হিসেবে কতোটা বাংলাকে বিশ্বের দরবারে উপস্থাপন করতে পারছি তা জানা নেই। কিন্তু, একুশ আজও চেতনা হয়ে রয়েছে কিছু মানুষের হৃদয়ে। সেই চেতনা উপলব্ধির মধ্য দিয়েই নতুন প্রজন্মকে বের হয়ে আসতে হবে বাংলিশ থেকে শুদ্ধ বাংলায়।

‘একুশ যুগ থেকে যুগান্তর বাঙালিকে পথ দেখাবে’

ছবি: জাকির হোসেন জীবন, তৃতীয় বর্ষ, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

একটি ভাষাভিত্তিক জাতি হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় চেতনার মূল ভিত্তি ও শক্তির জায়গা। পৃথিবীতে সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের একমাত্র দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন আমাদের পূর্বসূরীরা। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে, বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। একুশে ফেব্রুয়ারি একতাবদ্ধ চেতনায় মা, মাটি, মাতৃভাষায় সম্মান রক্ষায় জীবনকে তুচ্ছ মনে করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। দিবসটি আমাদের অনুভূতিকে নাড়া দেয়। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে।  দিবসটিতে প্রতিবছর ভাবি, সেই সময়ের সমাজ এবং সংস্কৃতি-প্রকৃতির কথা। সেদিনের ফাগুনের উত্তাপ, মা-মাটি-মাতৃভাষাকে ভালোবেসে সিংহের মতো প্রতিবাদ! যা যুগ থেকে যুগান্তর আগত-অনাগত সকল বাঙালিকে সাহসী করবে, এগিয়ে যাবার পথ দেখাবে। কতোটা আধুনিক, কতোটা প্রগতিশীল ছিলেন আমাদের পূর্বপুরুষেরা! যারা আজ থেকে সত্তর বছর আগে, অনাগত প্রজন্মের কথা চিন্তা করে নিজেদের জীবনকে তুচ্ছজ্ঞান করেছিরেন। তাই একুশ শুধু সরকারি ছুটির দিন নয়। একুশ আমাদের জাতীয় শক্তি, জাতীয়তাবোধ ও মা-মাটি, মাতৃভাষার প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধার এবং দেশপ্রেমের ভিত্তি।

‘মাতৃভাষার সুষ্ঠু ব্যবহার করতে হবে’

ছবি: জান্নাতুল নাঈমা মুন, প্রথম বর্ষ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিন (বিভাগ), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির কাছে অন্যতম ভাবাদর্শের একটি দিন। দিনটি স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের মতোই বাঙালির কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয়। এর কারণ শুধু এটা নয় যে, এদিন ভাষার জন্য আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে মিছিল করেছিলেন এবং নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন, মূলতঃ এই আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালি জাতির মধ্যে একটি চেতনার সৃষ্টি হয়েছিলো। এর সূত্র ধরেই মানুষ নিজের দেশকে স্বাধীন করতে জীবনের পরোয়া না করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার সাহস পেয়েছিলেন। যার ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো। মূলতঃ, একুশের চেতনা থেকেই বাঙালি জাতির মনে দেশের প্রতি এই অকৃত্রিম ভালোবাসার সঞ্চার হয়েছিলো। তাই এ দিনকে স্মরণ করা এবং যথাযথভাবে চেতনায় ধারণ করা প্রয়োজন। সেদিন কতিপয় যুবকের জীবনের বিনিময়ে বাংলা ভাষা অর্জিত হলেও বর্তমানে কিছুসংখ্যক মানুষ অন্য ভাষায় অনেক বেশিই অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন। এক্ষেত্রে নিজের মাতৃভাষাকে অবমাননা করা হচ্ছে- যা কাম্য নয়। তাই মাতৃভাষা দিবসের ভাবনা হলো- নিজের ভাষাকে মর্যাদা দিয়ে ভাষার সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা।

‘হার না মানার শিক্ষা নিতে হবে’

                                   ছবি: রায়হান খান আকাশ, শিক্ষার্থী, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

বাঙালি জাতির রক্তে মিশে আছে আপোসহীনতা। সাহসী এ জাতির তরুণরাও সাহসিকতার পরিচয় তুলে ধরেছেন নিজেদের রক্ত বিসর্জনের মাধ্যমে। তাই যদি না হবে, ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে স্বজাতির ভাষা রক্ষায় তরুণরা নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিতেন না। গুলি ও লাঠির আঘাতে মরতে হতো না রফিক, জব্বার, শফিউল, সালাম, বরকতসহ অন্যদের। সেই হার না মানার শিক্ষা আমাদের নিতে হবে। চেতনার মাঝে আজীবন বাঁচিয়ে রাখতে হবে ভাষা সৈনিকদের। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এটিই হোক অঙ্গীকার।

একুশ গৌরবের, অহংকারের

ছবি: মুসাররাত তাসমিয়া রহীম, তৃতীয় বর্ষ, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরীই দিনটিকে বিশেষায়িত করে। সকাল থেকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে খালি পায়ে আলপনার উপরে জড়ো হয় হাজার হাজার বাঙালি, পোশাকে একুশের রং, হাতে ফুল, অন্তরে ভাষা শহীদদের প্রতি অতল শ্রদ্ধা। কানে করুণ সুরে বাজতে থাকে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’। তখন নিদারুণ কষ্টে হৃদয় থেকে উৎসারিত হয়- ‘আমি কি ভুলিতে পারি’!

সত্যিই তো, আমরা কীভাবে এই দিনকে ভুলতে পারি! এই ভাষার সংগে আমাদের কতো আবেগ। সেই বায়ন্নর প্ল্যাকার্ড, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই স্লোগান, সেই কৃষ্ণচূড়া গাছ, পিচঢালা পথ, গুলির আওয়াজ যেন বছর ঘুরে আবার বুকে এসে বিঁধে, এই দিনে। বছরের অন্যসব দিনের মতো এই দিন নয়। এই দিন গৌরবের, অহংকারের। দুর্ভাগ্য যে, আমরা একুশের মূল ঐতিহ্যিক আয়োজন থেকে অনেকটা দূরে সরে গেছি। আমরা বই মেলায় ঘুরতে গেলেও বছরের অধিকাংশ সময়ে বাংলা বই পড়ি না। শুদ্ধ বাংলার চর্চা করি খুব কম। আমরা দিবসটি পালনও করি পাশ্চাত্যের সময়ে! বাঙালি সংস্কৃতি অনুযায়ী রাত ১২টা ১ মিনিটকে দিনের প্রথম প্রহর বলা যায় না। এটি পাশ্চাত্যের হিসাব। বাংলায় দিনের পরিধি প্রত্যুষ থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এ কারণে একুশের প্রথম প্রহর ২১ ফেব্রুয়ারির প্রত্যুষ। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমরা ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করে বিনা প্রশ্নে রাত ১২টা ১ মিনিটে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করি। এসব কাজ বুঝে বা না বুঝে করার ফলে আমরাই শুধু ঐতিহ্য বিচ্ছিন্ন হচ্ছি না, পৃথিবীর মানুষের সামনেও ভুল বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছি । বিশ্বায়নের যুগে নিজস্ব চেতনাকে যেন হারিয়ে না ফেলি- এবারের একুশে এই হোক আমাদেও প্রতিজ্ঞা ও মূলমন্ত্র।

‘একুশ এসেছিলো বাংলার মানুষের মুক্তির দূত হয়ে’

ছবি: জয়নাল আবেদীন, দ্বিতীয় বর্ষ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

একুশ আমাদের চেতনা, একুশ আমাদের অহংকার। একুশ মানেই নিজের অস্তিত্বকে চেনা। তবে সেই চেতনা আমরা অনেকাংশেই ভুলতে বসেছি। যদিও অনেকেই একুশে ফেব্রুয়ারি দিনটি পালন করি, তবে নিজের সংস্কৃতিকে ধারণ করি না। একুশকে বাঙালির প্রাণ বলা হয়, কারণ বাংলা ভাষার জন্য, নিজেদের সংস্কৃতিকে বাঁচানোর জন্য বাঙলার দামাল ছেলেরা এদিন বুকের রক্ত দিয়েছেন। যার ভাবধারায় এসেছে স্বাধীনতা। পেয়েছি বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্র। আমরা প্রভাত ফেরিতে ফুল দিয়ে আসি ঠিকই কিন্তু শহীদদের শ্রদ্ধার সংগে স্মরণ করি খুব কমই। অনেকে ফুল নিয়ে পায়ে হেঁটে শহীদ মিনারে যাই বটে, কিন্তু এর প্রকৃত তাৎপর্য, ইতিহাস জানি ক’জন?

আমরা বছরের পর বছর গতানুগতিকভাবে শুধু একুশে ফেব্রুয়ারির দিনটিই পালন করবো? আমরা কি পারি না, আমাদের চেতনাকে মনে ধারণ করে বাঁচিয়ে রাখতে ? একুশ বাংলার মানুষের মুক্তির দূত হিসেবে এসেছিলো। এর ধারাবাহিকতায় আজ বাংলাদেশকে পরিচিত করিয়ে দিচ্ছে বিশ্বের দরবারে। বাঙালি আজ বাঁচতে পারে মাথা উঁচু করে। তাই, শুধু গতানুুগতিকভাবে একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করলেই হবে না। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে, দেশকে ভালোবেসে, মনে প্রাণে চেতনাকে ধারণ করে ও নিজের অস্তিত্বকে স্বীকার করেই একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করতে হবে।

‘পাঁচজন পথশিশুকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানাবো’

ছবি: ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া, তৃতীয় বর্ষ, আইন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরি হয়েছিলো ১৯৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারি। তাই একুশে ফেব্রুয়ারি অবশ্যই আমাদের চেতনার অংশ। তবে এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, বর্তমান তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশ আমাদের দেশের ইতিহাস এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতন নয়। আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেক বাংলাদেশী একুশে ফেব্রুয়ারির প্রেক্ষাপট জানেন। ব্যক্তিগতভাবে মাতৃভাষা দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি অন্তত পাঁচজন পথশিশুকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানাতে চাই। কারণ, তারা আমাদের সমাজের অংশ হলেও সুবিধাবঞ্চিত হওয়ায় অনেক সময় সঠিক ইতিহাস জানার সুযোগ পায় না। আমি চাই, তারাও আমাদের গৌরবের ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে জানুক।

বিভি/এইচডব্লিউ/ইই/এমএইচকে

You may also like

করোনায় ৭ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৬১৯ জন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও সাত জন