দূষিত শহরের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা বলছে, বায়ুদূষণে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আয়ু কমছে বাংলাদেশের মানুষের। ১৯৯০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে এই দূষণ সবচেয়ে বেড়েছে ভারত ও বাংলাদেশে। বাংলাদেশে বছরে এক লাখ ২২ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে এর ক্ষতিকর প্রভাবে। আর যথারীতি দূষিত বায়ুর শহরের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রাজধানী ঢাকা। ঢাকাকে পরিবেশ দূষণের নগরী বললে খুব একটা ভুল কি হবে? নিশ্চয়ই না। কারণ পরিসংখ্যান বলছে, বায়ু দূষণে শীর্ষে থাকা ভারতের দিল্লির পরই রাজধানী ঢাকার অবস্থান। তবে এই দুষণে ক্ষতির দিক থেকে বেশি ঝুঁকিতে বাংলাদেশ। অবস্থা এমনই যে একদল মার্কিন গবেষক জানিয়েছেন চারপাশের বায়ুদূষণে একজন বাংলাদেশি নাগরিকের আয়ু কমছে প্রায় ২২ মাস।

হবেই না কেন? দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ইটভাটায় এভাবে কয়লা পুঁড়িয়ে দূষিত করা হচ্ছে পরিবেশ। এই মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে চারপাশের ধুলা। নগরের বিভিন্ন স্থানে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ধুলার রাজ্যে বসবাস। সমীক্ষা বলছে, ঢাকার বায়ু দুষণের জন্য রাজধানীর চারপাশের ইটের ভাটাগুলো ৫৮ ভাগ, যানবাহন ১০ আর ২৭ শতাংশ দায় ধুলোবালির। সবচেয়ে মিহি যে ধূলিকনা তার সহনীয় মাত্রা ৬৫ একক হলেও রাজধানীর জিপিও মোড়ে দশগুনেরও বেশি ৬৭০ একক। প্রেসক্লাব মোড়ে দশ গুন বেশি – ৬৫৫। ধানমন্ডি ২৭ নম্বর মোড়ে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে দশ গুণেরও বেশি ধূলিকণা পাওয়া গেছে – ৬৪০ একক। বাতাসে বস্তুকণার অস্বাভাবিক উপস্থিতি থেকে শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ, অ্যাজমা, সর্দি-কাশি, ফুসফুসের বিভিন্ন রোগ, হৃদরোগ এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে। ২০১৫ সালে বায়ু দূষণে ঢাকা শহরে মারা যায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ।বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয় এ তথ্য । মিজানুর রহমান সবুজ, বাংলাভিশন, ঢাকা।

You may also like

দেশব্যাপী বিভিন্ন খাতে দুর্নীতি ও লুটপাটের মহোৎসব চলছে : রিজভী

দেশব্যাপী বিভিন্ন খাতে দুর্নীতি ও লুটপাটের মহোৎসব চলছে