২৫তম সংশোধনী পাশ- ট্রাম্প কি বিদায় নিচ্ছেন?

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অপসারণের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ-প্রতিনিধি পরিষদ। সেইসাথে, চলছে ট্রাম্পকে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণের জন্য ভোটাভুটির প্রক্রিয়া।

প্রতিনিধি পরিষদে এই প্রস্তাব পাশের ফলে আগামী ২০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা হস্তান্তরের আগেই ট্রাম্পকে বাধ্যতামূলক অপসারণের রাস্তা উন্মুক্ত হলো। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে প্রস্তাবটি ভোটাভুটির জন্য তোলা হলে পক্ষে ২২৩ এবং বিপক্ষে ২০৫ ভোট পড়ে। যদিও, ভোটাভুটির আগেই এতে সমর্থন না দেয়ার ঘোষণা দেন বিদায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। প্রতিনিধি পরিষদ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিকে এ বিষয়ে চিটিও দিয়েছেন তিনি। পেন্সের মতে, সংবিধানের স্বার্থে ভালো নজির হবে না এটি।

পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ-সিনেটের অনুমোদন পেলে ২৫তম সংশোধনী চূড়ান্তভাবে কার্যকরের তৎপরতা শুরু হবে। যদিও, রিপাবলিকান পার্টির দৃঢ় বিশ্বাস সিনেটের ভোটাভুটিতে নাকচ হবে বহুল আলোচিত এই প্রস্তাব। ২৫তম সংশোধনী কার্যকর হলে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার রাস্তা উন্মুক্ত হবে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের জন্য। তিনি চাইলে সরকারে মন্ত্রিসভা ও নির্বাহী বিভাগ তাঁর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ট্রাম্পকে দায়িত্ব পালনে অক্ষম উল্লেখ করে বিদায় দিতে পারবেন। গেলো ক’দিনে এই ভূমিকা নিতে ডেমোক্রেট নেতারা মাইক পেন্সকে একে পর এক অনুরোধ জানালেও তাতে সাঁয় দেননি তিনি।

বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রস্তাব নিয়েও জোরদার তৎপরতা শুরু করেছেন বিরোধী ডেমোক্রেট নেতারা। গত সোমবারই ট্রাম্পকে অভিশংসনের প্রস্তাব উত্থাপনের আগাম বার্তা দিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা স্টেনি হোয়ের। এক্ষেত্রে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির অনেকে নেতার মৌন সম্মতির পাশাপাশি প্রকাশ্য ঘোষণাও এসেছে। বিতর্কিত নানা কারণে ট্রাম্পের চরম আলোচিত শাসনামলের লজ্জাজনক ইতি টানার এই প্রস্তাব পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ-প্রতিনিধি পরিষদে ওঠানো হবে স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৯টায়। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ট্রাম্পই হতে চলেছেন একমাত্র প্রেসিডেন্ট যার বিরুদ্ধে দুই দফায় অভিশংসন প্রস্তাব উঠলো।

গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ফলাফল প্রকাশ হলে শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে কারচুপির অভিযোগ তুলে আসছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে, নিজ দলের ভেতরেই চরম সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। সময় গড়ানোর সাথে সাথে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেন তাঁর দলের নেতারা। আসছে ২০ জানুয়ারি নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডেমোক্রেট নেতা জো বাইডেনের কাছে সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়েও দেখা দেয় অনিশ্চয়তা।

সবশেষ গত সপ্তাহের শেষে নজিরবিহীন হামলা হয় যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টে। এতে, এক পুলিশ সদস্যসহ নিহত হয় পাঁচজন। মূলত এই ঘটনা দলের ভেতরেই ট্রাম্পের প্রতি অনাস্থার পারদ আরও তালানীতে এসে নামে। শুরু হয় আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা হস্তান্তরের আগেই ট্রাম্পকে অপসাারণের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার সর্বোচ্চ প্রয়োগের তৎপরতা।

You may also like

অনৈতিক কাজে ক্ষমতা খাটাবেন না নয়া মেয়র

অন্যায়-অনৈতিক কাজে ক্ষমতাকে ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে