ধানের ভরা মৌসুমেও অস্থির চালের বাজার

ধানের ভরা মৌসুমেও অস্থির চালের বাজার। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে উত্তরাঞ্চলে প্রতি কেজি চালের দাম গড়ে তিন থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এদিকে, গত দুই মাসের ব্যবধানে ভৈরব অঞ্চলে বস্তা প্রতি চালের দাম বেড়েছে নয়শ’ থেকে এক হাজার টাকা করে।

যা কেজিতে ১০ থেকে ১৫টাকা বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন ইতিহাসের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে এবারের চালের মূল্য। মিল মালিক ও মজুদদাররা সিন্ডিকেট করেই এই দাম বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ অনেকের। আবার কেউ বলছেন, হাওর অঞ্চলের আগাম বন্যার কারনে বেড়েছে চালের দাম।

সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জের হাওরগুলোর একটি বড় অংশের ধান আসে ভৈরব মোকামে। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধান যায় মিলাদের কাছে। আবার উত্তরাঞ্চলের চিকন চালও ভৈরব মোকামে আসে।

গত বছর এসময় যেখানে ভৈরবের আড়ৎগুলো চালে ভরপুর ছিল, এবার সেখানে একেবারেই ভিন্ন চিত্র। বোর ধান উঠার আগেই হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যার প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে। তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। দুই মাসের ব্যবধানে প্রতি ৫০কেজি বস্তায় বেড়েছে ৯শ’ থেকে এক হাজার টাকা।

ভৈরবে পাইকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে চালের সরবরাহ কম, তাই দাম বেশি। আবার কেউ মিল মালিক ও মজুদদারদের সিন্ডিকেটকেই দুষছেন। এদিকে, গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝিতে আমন ধানের চাল বাজারে এসেছে। কিন্তু দাম কমেনি বরং বেড়েই চলছে।রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বাজারে গত দুই সপ্তাহ আগে মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তা ছিল ২২শ’ টাকা। যা বর্তমানে দুই হাজার ৭শ’ টাকায় কিনতে হচ্ছে।

তবে, চালের দাম বাড়ার জন্য একে অপরকে দায়ি করছেন ব্যবসায়ী ও মিলাররা। চালের উপর আবগারি শুল্প প্রত্যাহারসহ চড়ামূল্য নিয়ন্ত্রণ করার দাবি ব্যবসায়ী নেতাদের। এমনকি ভাতপ্রিয় বাঙালির চালের দর হাতের নাগালে রাখতে সংশ্লিষ্টদের আরো তৎপর হওয়ার দাবি সাধারণের।

এদিকে, খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, বিএনপি ঘরানার কিছু ব্যবসায়ী ও অসাধু মিল মালিকদের কারণেই চালের দাম বেড়েছে । সরকারের চাল আমদানির কারণে শিগগিরি বাজারে দাম কমে যাবে বলে আশা করছেন তিনি । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাল আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের চিন্তাভাবনা করছেন বলেও জানান কামরুল ইসলাম ।

You may also like

পবিত্র হজে যাওয়ার জন্য এখনো অপেক্ষায় প্রায় ৪৬ হাজার যাত্রী

পবিত্র হজে যাওয়ার জন্য রাজধানীর আশকোনায় এখনো অপেক্ষায়