চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতকে ১৮০ রানে হারিয়ে পাকিস্তানের শিরোপা জয়

অনেক প্রতিক্ষর পর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা উঠলো পাকিস্তানের হাতে। একপেশে ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১৮০ রানে হারিয়েছে টুর্নামেন্টের আন্ডারডগ পাকিস্তান। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে চার উইকেটে ৩৩৮ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে পাকিস্তান। জবাবে পাকিস্তানের বোলিং তোপে ১৫৮ রানে গুটিয়ে যায় ভারত।

ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে স্বপ্নের ফাইনাল। একপাশে একঝাক তারকায় ঠাসা ভারত। অন্যপ্রান্তে তারুণ্য ঝলমলে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত জয় তারুণ্যের। ভারতকে কোন সুযোগ না দিয়েই প্রথমবারের মতো ট্রফি হা্তে তুললো পাকিস্তান।
টস জয়টা হয়তো ভুলই হয়েছে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির। ফ্ল্যাট উইকেটে ব্যাটিংয়ে পাকিস্তান। শুরু থেকেই চড়াও দুই ওপেনার আজহার আলী ও ফখর জামান। পাকিস্তানের প্রথম শতক আসে ১৮ ওভারে, কোন উইকেট না হারিয়েই। উদ্বোধনী জুটি ১২৮ রানের। ৫৯ করে রান আউট আজহার।

তবে ঝড় থামেনি ফখর জামানের। অন্যপ্রান্তে সতীর্থরাও দিয়ে গেছেন যোগ্য সঙ্গ। দ্বিতীয় উইকেটে উঠলো আরো ৭২। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটা ফখর পেলেন ফাইনালের বড় মঞ্চেই।

ফখর ফিরলেন ১১৪ করে। তুলনায় তৃতীয় উইকেটটা পড়লো দ্রুতই। ইনফর্ম বাবর আজম ফিরলেন ৪৬ রানে। দ্রুত ফিরেছেন শোয়েব মালিকও। এরপর আরেক অভিজ্ঞ হাফিজের ঝড়। অর্ধশতক পেতে বল খরচ করেছেন ৩৩টি। ইনিংস শেষে অপরাজিত ৫৭ রানে। যদিও শেষ ৫ ওভারে রানের লাগামটা কিছুটা হলেও টেনে ধরে ভারত। তারপরও স্কোরবোর্ডে উঠলো ৩৩৮।

রান তাড়া করায় বিখ্যাত ভারতের শুরুতেই ব্যাকফুটে। বল হাতে জ্বলে উঠলেন মোহাম্মদ আমির। রানের খাতা খোলার আগেই সাঁজঘরে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের নায়ক রোহিত শর্মা। যার ওপরে সবচেয়ে বড় ভরসা সেই কোহলিও পুড়লেন আমিরের বোলিং আগুনে। এরপর বিদায় শিখর ধাওয়ানের। এবারো শিকারী সেই আমির। ৩৩ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকেই ছিটকে পড়ে ভারত।

আমিরের সাফল্যে উজ্জিবিত পাকিস্তান। যা কিছু সংশয় যুবরাজ ও ধোনিকে নিয়ে। পরপর দুই ওভারে তারাও ফিরলেন। যুবরাজ শিকার শাদাব খানের। আর ধোনাকে ফেরালেন হাসান আলী। কেদার যাদবের বিদায়ে অনেকটাই নিশ্চিত পাকিস্তানের জয়।
হার্দিক পান্ডিয়া ঝড় তুললেও তার কোন প্রভাব পড়েনি ম্যাচে। তার ৬ ছক্কায় ৭৬ ব্যবধান কমিয়েছে কিছুটা। বিশাল জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা উঠলো সরফরাজের পাকিস্তানের হাতে।
ফাইনালের মঞ্চে পাকিস্তানের বড় পরীক্ষা ব্যাটিং। সে পাশ এ প্লাস পেলেন আজহার আলি-ফাখার জামান। উদ্ভোধনী জুটিতেই ম্যাচ পাকিস্তানের দিকে। নিস্পান উইকেটে হাহুতাশ করলেন বোলাররা।১২৮ রানের জুটি ভাঙে আজহার ফিফটি করে বিদায় নিলে। বাবর আজমের সাথে জুটি বড় হয়নি। কিন্তু নিজের মেইডেম সেঞ্চুরি তুলতে কাঠখড় পোড়াতে হয়নি ফাখারের।সেঞ্চুরির পর টিকতে পারেননি ফাখার। নিঃশ্বাস নেয়ার সুযোগ পায় ভারত।শুরুর ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন বাবার আজম-শোয়েব মালিক।এরপর মোহাম্মাদ হাফিজের ফিফটিতে পাকিস্তানের বোডে ৩৩৮।

You may also like

স্প্যানিশ মৌসুম শুরুর সুপার কাপে আজ রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনা শিরোপার লড়াই

স্প্যানিশ মৌসুম শুরুর সুপার কাপে আজ রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনা