দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি

দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। সিরাজগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে শতাধিক ঘর-বাড়ি। বগুড়ায় যমুনার পানি বিপদসীমার ৫৮ সেন্টিমিটারে স্থিতি থাকলেও, নদী চরে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভাঙ্গন। জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি বেড়ে বিপদসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। কুড়িগ্রামের কয়েকটি পয়েন্টে কিছুটা কমেছে বন্যার পানি।

সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। জেলার বাহুকায় যমুনার পানির প্রবল তোড়ে বৃহস্পতিবার রাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। প্লাবিত হয়েছে শতাধিক ঘর-বাড়ি। সেনাবাহিনীর ১১ রিভার ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়ানের সদস্য এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সদস্যরা চালাচ্ছেন সংস্কার কাজ।

 

বগুড়ায় যমুনার পানি এখনও বিপদসীমার ওপরে। বন্যার পাশাপাশি সারিয়াকান্দির কাজলা ইউনিয়নের চরাঞ্চলে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে ভাঙ্গন কবলিত মানুষ। এদিকে, জেলার ধনুটের ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের ভুতবাড়ি গ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ইঁদুরের গর্ত থেকে পানি চুঁইয়ে বাঁধের ৬০ মিটার ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

 

উজান ঢলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে জামালপুরে। যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে এখনও বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে বইছে। জেলার পাঁচ উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দী। বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাবারের সংকট।

 

জামালপুরের দুর্গত এলাকায় জেলা প্রশাসনের ত্রাণ সহযোগিতা অব্যাহত।

 

কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতিও অপরিবর্তিত আছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি কুড়িগ্রামের চিলমারী পয়েন্টে কিছুটা কমলেও বিপদসীমার বেশ ওপর দিয়ে বইছে। তবে কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি এবং তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানিও কিছুটা কমেছে। এদিকে, দুর্গতদের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণ সহায়তা অপর্যাপ্ত। ফলে চরম খাদ্য সংকটে বন্যার্তরা।

 

সিলেটের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে বানের পানি নামার সাথে সাথে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন দুর্গতরা। পানিবাহিত চর্মরোগ, ডায়রিয়া ও আমাশয়ের প্রকোপ দেখা দিয়েছে প্লাবিত এলাকায়। কিন্তু ব্যানার সর্বস্ব মেডিকেল টিমের নৌকার অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও কোন স্বাস্থ্যকর্মীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

 

এদিকে, জেলার প্লাবিত ৮টি উপজেলার অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকা থেকে পানি নেমে যাওয়ার সাথে দুর্গতরা নিজ নিজ বসতভিটায় ফিরতে শুরু করেছেন। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সবক’টি পয়েন্টে বিপদসীমার নিচ দিয়ে বইছে। বিভিন্ন এলাকায় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা নেই, জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

 

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা। পানিবন্দী অন্তত ৩০ গ্রামের এলাকাগুলো। তৈরি হয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট। তিস্তা নদীর পানি এখনও বিপদ সীমার সামান্য নীচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও নদী তীরবর্তী গ্রাম ও চরগুলোতে এখনও বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। এখন পর্যন্ত বন্যা কবলিত এলাকা গুলোতে সরকারী বা বেসরকারী ত্রান সামগ্রী পৌঁছেনি। বানভাসি মানুষদের মাঝে জরুরি ভিত্তিতে শুকনো খাবার সরবরাহ করার দাবি জনপ্রতিনিধিদের।

 

এদিকে, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। ১৪ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদ সীমার চার সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। ফলে সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ও ডিক্রিরচর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

 

You may also like

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।

এ ইস্যুতে দলটির নেতারা যে ভাষায় কথা বলছেন