চরম দুর্ভোগে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বন্যার্তরা

অপরিবর্তিত রয়েছে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি। বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি। যমুনার পানির প্রবল তোড়ে সিরাজগঞ্জের বাহুকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নব নির্মিত বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার বিলীন হয়েছে।

সিরাজগঞ্জে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলার বাহুকায় যমুনার পানির প্রবল তোড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩০ মিটার বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে শতাধিক ঘর-বাড়ি। আকস্মিক ভাবে এই বাঁধ ধসে এলাকা জুড়ে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে।

ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, উন্নতি হয়নি কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির। টানা ১০ দিন ধরে স্থায়ী বন্যার ফলে প্রায় ৭শ’ বর্গকিলোমিটার এলাকা তলিয়ে গেছে। ৪২টি ইউনিয়নের আড়াই লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দী। এ পর্যন্ত বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে ৩জন। দুর্গতদের মাঝে ৪০০ মেট্রিক টন চাল, ১১লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

বগুড়ায় যমুনার পানি এখনও বিপদসীমার ওপরে। বিশুদ্ধ খাবার পানির সমস্যায় পড়েছেন বাঁধে আশ্রয় নেওয়া মানুষ। এদিকে জেলা প্রশাসক বগুড়ার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধনুট উপজেলার ১শ ৯১টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে জেলার কৃষিখাত।

গাইবান্ধাতেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বিরামহীন বৃষ্টির ফলে বানভাসি মানুষের জনজীবনে দুর্ভোগের মাত্রা বেড়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার পানিবন্দীরা খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ দেয়া হলেও তা না পাওয়ার অভিযোগ অধিকাংশ মানুষের।

উজানের ঢলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে জামালপুরে। বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। জেলার পাঁচ উপজেলার ২৫ ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দী। জেলায় বোরো আমন ধানের ২১০ হেক্টর বিজতলা এবং ৪৫০ হেক্টর সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এদিকে, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বিভিন্ন বন্যা দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার বিতরন করেছেন।
ফরিদপুরে পদ্মা নদীসহ অন্য নদ-নদীর পানি বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘন্টায় পদ্মার পানি গোয়ালন্দ পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

 

You may also like

চুলের বাড়তি যত্ন

চুল কেন পড়ে যাচ্ছে সেই দুশ্চিন্তা থেকেই অনেকের