আবার পানি বাড়ছে যমুনা ব্রহ্মপুত্র তিস্তাসহ বেশিরভাগ নদ-নদীর

টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে দ্বিতীয় দফা বন্যায় মরার ওপর খাড়ার ঘায়ের মতো ভূগছে দুর্গতরা। পানি বাড়ছে যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তাসহ দেশের বেশিরভাগ নদ-নদীতে। এরইমধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। স্থগিত করা হয়েছে সুনামগঞ্জের সাত উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা। আগামী ৭২ ঘন্টায় এসব নদীর পানি আরো দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরন কেন্দ্র।

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমারসহ প্রায় সব নদ-নদীতেই পানি বাড়ছে দ্রুত। দ্বিতীয় দফা বন্যায় বেশি আক্রান্ত দ্বীপচর ও নদী তীরবর্তি এলাকাগুলো। তলিয়ে গেছে শতাধিক গ্রাম। পানিবন্দী অন্তত ১০ হাজার মানুষ। এদিকে, কয়েকটি এলাকায় বেড়েছে ভাঙনের তীব্রতা। ভাঙনের ফলে ঝুঁকিতে ধরলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ।

লালমনিরহাটে তিস্তা ও ধরলার পানি বিপদ সীমার ওপরে থাকায় নতুন নতুন এলাকা তলিয়ে গেছে। পাঁচ উপজেলার ২১ ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী। তাদের অনেকেই বাড়ি-ঘর ছেড়ে গরু ছাগল হাঁস মুরগী নিয়ে সরকারি রাস্তার ওপর আশ্রয় নিলেও ভূগছে খাদ্য ও পানীয় জলের সঙ্কটে।সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদ সীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপরে। দ্বিতীয় দফা বন্যার শংকায় নদী পারের মানুষ।হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর পানি বইছে বিপদসীমার ২১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। পানি আরো বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এদিকে, টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলও। সাত উপজেলায় কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি। স্থগিত করা হয়েছে এসব উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা। বন্যা মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

অন্যদিকে, খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে খাগড়াছড়ির সাথে সাজেক,বাঘাইছড়ি ও লংগদুর সড়ক যোগাযোগ। পানিবন্দি সহস্রাধিক পরিবার। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির কাচালং নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। প্রায় দেড় হাজার লোককে সরিয়ে নেয় হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্রে। এদিকে, কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় তলিয়ে আছে ঝুলন্ত সেতু।ভারীবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে অস্বাভাবিক বেড়েছে শেরপুরের নালিতাবাড়ীর ভোগাই, চেল্লাখালি নদীর পানি । ১০ জায়গায় বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা।তলিয়ে গেছে পঞ্চগড়ের ৫ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দূর্গত এলাকায় শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।ঠাকুরগাঁওয়ে সহস্রাধিক হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে। ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রেলপথের নয়ন ব্রিজ এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার রেলপথ তলিয়ে গেছে।

এদিকে, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরন কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘন্টায় এসব এলাকার নদীগুলোতে বিপদসীমার ওপরে দুই থেকে তিন ফুট পানি বাড়বে।আতংকিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

 

You may also like

আজ থেকে শুরু হয়েছে ঈদের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি

আজ থেকে শুরু হয়েছে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি।