আলুর দোষ, না সংরক্ষণ ও বিপণনের ঘাটতি?

দেশে আলুর ফলন বাড়তে থাকলেও, বাড়ছে না রফতানি। নেই সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের সুষ্ঠু প্রক্রিয়াও। ফলে  প্রতিবারই চাহিদার বেশি উৎপাদিত আলু নিয়ে বিপাকে পড়াই যেন কৃষকের নিয়তি। অথচ কার্যকর উদ্যোগ থাকলে রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামে আলু রফতানির সম্ভাবনা দেখছেন রফতানিকারকরা।

গত কয়েকবছর ধরে দেশে আলু উৎপাদন বাড়ছেই। তবে, অতি ফলন কখনো কখনো রূপ নেয় বিড়ম্বনায়। সেইসাথে গুণতে হয় লোকসানও। আলু নিয়ে এবারও দুর্গতিতে চাষীরা। তারা বলছেন, সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, নেই বাজারজাতকরণেরও সহজ পন্থা।

আলুর বাম্পার ফলন

গেলো কয়েক বছর ধরে দেশে ১ কোটি টনেরও বেশি আলু উৎপাদন হচ্ছে। চলতি মৌসুমে আলুর ১ কোটি ১৩ লাখ টন ফলনের টার্গেট সরকারের। কৃষি বিভাগের হিসাবে, বছরে আলুর অভ্যন্তরীণ চাহিদা ৭০ লাখ টন। বিপরীতে রফতানির পরিমাণ মাত্র ৪০ হাজার টন। সেই অনুযায়ী ৪০ লাখ টনেরও বেশি উদ্বৃত্ত আলু নিয়ে বিড়ম্বনা পোহাতে হয় প্রান্তিক কৃষকদের। এ অবস্থা থেকে বাঁচতেই রফতানির বাজার বাড়ানোর দাবি তাদের।

বর্তমানে শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, সিঙ্গাপুর ও নেপালে আলু রফতানি হচ্ছে নিয়মিত। রাশিয়া বাংলাদেশ থকে আলু নিতে শুরু করলেও এতে ব্যাকটেরিয়া ধরা পড়ায় ২০১৫ সালে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়াও বাংলাদেশ থেকে আলু নিতে আগ্রহ জানিয়ে পর্যবেক্ষণ দিলেও এ বিষয়ে আর অগ্রগতি নেই। রফতানিকারকরা বলছেন, আলুর গুণগত মান নিশ্চিত করতে কন্টাক্ট ফার্মিংয়ের পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

তবে কৃষি বিভাগের দাবি, রফতানি বাজার বাড়াতে বদ্ধ পরিকর সরকার। আলু রফতানিতে রাশিয়ার সাথে বিদ্যমান সমস্যা মিটবে বলেও আশা তাদের।

আলুর ফলনে খুশি কৃষক

আলু রফতানি বৃদ্ধিতে হিমাগার বাড়ানো, সরকারিভাবে ভতুর্কি দিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে আলু কেনাসহ কৃষি মন্ত্রণালয়কে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের দেয়া সুপারিশের কোনো বাস্তবায়নই দেখছেন না আলু চাষে জড়িতরা। শুধু আশ্বাস বাণী নয়, আলুর উৎপাদনের ঊর্ধ্বগতি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ আলু চাষী, ভোক্তাদের।

You may also like

কুষ্টিয়ায় ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত; রাজশাহী থেকে খুলনার ট্রেন চলাচল বন্ধ

মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়েছে কুষ্টিয়ায়। এতে বন্ধ