চালবাজদের চালবাজিতে অস্থির চালের বাজারঃ বিআরসি’র রিপোর্ট

বড় মিল মালিক ও ব্যবসায়ীদের অসম প্রতিযোগিতা এবং পণ্য উৎপাদনের তথ্য বিভ্রাটই বাজার অস্থিতার কারণ। দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির জন্য অদৃশ্য হাতকেই দায়ী করেন গবেষকরা। তারা বলেন, পণ্য উৎপাদন তথ্যে আছে অসচ্ছ্বতা।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল-বিআরসি তাদের গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। মঙ্গলবার বিকালে সংস্থাটি তাদের গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।  একমাসব্যাপি মাঠপর্যায়ের এই গবেষণায় উঠে আসে পণ্যের দাম বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিএআরসির বাস্তবায়নে ও কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন’র (কেজিএফ) অর্থায়নে চাল, আলু ও পেঁয়াজ ইত্যাদির দাম বৃদ্ধির কারণ উদঘাটনের জন্য তিনটি স্টাডি টিমের মাধ্যমে জরিপ পরিচালনা করা হয়। ধান/চাল বিষয়ক গবেষণার ক্ষেত্রে নওগাঁ, শেরপুর, কুমিল্লা ও ঢাকা জেলা; আলুর ক্ষেত্রে মুন্সিগঞ্জ, বগুড়া, রংপুর ও ঢাকা জেলা এবং পেঁয়াজের ক্ষেত্রে ফরিদপুর, নাটোর, পাবনা ও ঢাকা জেলায় জরিপ পরিচালনা করা হয়।

বিএআরসি’র উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, চালের দাম বৃদ্ধির পিছনে মূল কারণ হলো, প্রায় সকল কৃষকই ধান কাটার প্রথম মাসের মধ্যে বাজারজাতযোগ্য উদ্বৃত্ত ধান বিক্রি করে দেন। গত বোরো মৌসুমে ধান বিক্রির ধরণটি পরিবর্তিত হয়েছে। এ মৌসুমে কৃষকরা তাদের ধান মজুদ রেখে ধীরে ধীরে বিক্রি করেছেন। ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা করোনা পরিস্থিতিতে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা করেছিলেন এবং মজুদ ধরে রেখেছিলেন।

আলুর মূল্য বৃদ্ধির পিছনে, ভবিষ্যতে মূল্য বৃদ্ধির আশায় কৃষক ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে আলুর মজুত এবং হিমাগার থেকে আলুর কম সরবরাহকেই কারণ হিসেবে পেয়েছেন গবেষকরা। তাছাড়া, হিমাগারে মজুতকৃত আলুর রশিদ পুনঃপুন হস্তান্তর, পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে আলু রপ্তানি, মৌসুমি ব্যবসায়ীদের তৈরি আলুর বিপুল মজুত এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি, বর্ষা মৌসুমের ব্যাপ্তি দীর্ঘতর হওয়ায় সবজির উৎপাদন হ্রাস এবং আলুর চাহিদা বৃদ্ধি, হিমাগারে আলুর সংরক্ষণের পরিমাণ কম, টিসিবি কর্তৃক আলুর বিতরণ অপ্রতুল প্রভৃতি কারণ রয়েছে।

পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির পিছনে দেশীয় অসাধু বাণিজ্য সিন্ডিকেটদে কারসাজি এবং ভারতীয় রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা অন্যতম কারণ।

গবেষণায় চাল, আলু ও পেঁয়াজ ইত্যাদির দাম বৃদ্ধির উত্তরণে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো নিম্নরূপঃ

  • ধান/চাল সংগ্রহ পদ্ধতির আধুনিকায়ন করা, কৃষকের নিকট থেকে সরাসরিভাবে ধান সংগ্রহ করা এবং মিলারদের মাধ্যমে তা চালে পরিণত করা।
  • চিকন ও মোটা দানার চালের জন্য সরকারের পৃথক ন্যূনতম সহায়তা মূল্য (এমএসপি) ঘোষণা করা।
  • ন্যূনতম ২৫ লক্ষ টন চাল সংগ্রহ করা এবং মোট উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ সংগ্রহ করার সক্ষমতা অর্জন করা, যাতে সরকার বাজারে কার্যকরভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

You may also like

বাইডেন-ট্রুডো’র প্রথম বৈঠক

প্রথমবারের মতো বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন