ঢাকা মেডিকেলের বিশগুণ বেশি দামে উপকরণ কেনে পঙ্গু হাসপাতাল

ঢাকা মেডিকেল থেকে বিশগুণ বেশি দামে চিকিৎসা উপকরণ কেনে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান বা পঙ্গু হাসপাতাল। আর এ টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও যুবলীগ থেকে বহিস্কৃত নেতা কামরান শহীদ প্রিন্স মহব্বতের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা যায়, নজরুল, মহব্বত, জুয়েলসহ পাঁচজনের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে টেন্ডার বাণিজ্য। লিটন খান ও আমানুল্লাহ ওয়ালসের ক্যামেরায় জিয়া খানের দুই পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রথম পর্ব।

২০১৬-১৭ অর্খ বছরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান বা পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসা উপকরণ কেনার জন্য দরপত্রের বাজেট ধরা হয় পনেরো কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে সে বাজেট দাঁড়ায় বিশ কোটি টাকা। আর পরের বছর বাজেট হয় চব্বিশ কোটি ৫০ লাখ টাকা। দরপত্রে দেখা যায় ১৭-১৮ অর্থ বছরে ঢাকা মেডিকেলের জন্য এইচআইভি ডেভিস এক্সেল দাম যেখানে ২৮ টাকা সেখানে পঙ্গু হাসপাতালের জন্য দাম ধরা হয় ২৯০ টাকা। একই ভাবে পরের বছর দরপত্রে ঢাকা মেডিকেলের জন্য সার্জিক্যাল ব্যান্ডেজ কেনা হয় ১১৫ টাকায়। আর পঙ্গুর জন্য কেনা হয় ৩০১ টাকায়। এভাবে দরপত্রে কয়েকগুণ বেশি দামে চিকিৎসা উপকরন কেনা হয় পঙ্গু হাসপাতালের জন্য।

যা বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দাম। কিন্তু কেন.. এমন প্রশ্নের উত্তর দেন টেন্ডার পাওয়া আনিকা এন্টারপ্রাইজের মালিক রাহাতুল ইসলাম জুয়েল। অনেক চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি যার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ যুবলীগের বহিস্কৃত নেতা সেই কামরান সহিদ প্রিন্স মহব্বতের দিকে।বিগত কয়েক বছরের হিসেবে বলছে, কামরান সহিদ প্রিন্স মহব্বতের প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিথী ও মেঘা এন্টারপ্রাইজ, রাহাতুল ইসলাম জুয়েলের প্রতিষ্ঠান আনিকা এন্টার প্রাইজ, মিরাজুল ইসলাম স্বপনের প্রতিষ্ঠান ট্রমা সার্জিক্যাল এবং নাছির উদ্দিন বাবুলের প্রতিষ্ঠান নেপচুন এন্টারপ্রাইজ, ঘুরে ফিরে এই চারটি প্রতিষ্ঠানই সবসময় টেন্ডার পায়।

কামরান শহীদ প্রিন্স মহব্বতের সাথে টেন্ডার বাণিজ্যর সাথে জড়িত হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি নজরুল ইসলাম। এমন অভিযোগও করেন ঠিকাদাররা। দীর্ঘ সময় ধরে যাদেরকে কাজ পাইয়ে দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তারাও জানেন কতটা চালাক নজরুল। পঙ্গু হাসপাতালে দু’দিন ঘুরে অবশেষে দেখা মিললো নজরুলের। কিন্তু ক্যামেরা দেখেই পালাবার চেষ্টা তার। অনেক বাহানার পর কথা বললেন টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ে। তিনি স্বীকারও করলেন, কখন টেন্ডার হবে, কারা অংশ নেবে, করে খোলা হবে সব কিছুই করতে হয় তার। টেন্ডার বাণিজ্যের সিন্ডিকেট থেকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান বা পঙ্গু হাসপাতালকে বাঁচাতে উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের এই কর্মকর্তা। অসাধূ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পাশাপাশি ক্ষমতাবান কেউ জড়িত থাকলেও ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান ডা. হাবিবুর রহমান।

 

You may also like

২৭ জানুয়ারি, বুধবার ২০২১

সকাল ৮:৩০ : অনুষ্ঠান ‘দিন প্রতিদিন’। সকাল ১০:৩০