চীনে করোনা টিকা দেয়া শুরু, কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

বুধবার থেকে জনগণের মধ্যে করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু করেছে চীন। দেয়া হচ্ছে বেইজিংয়ে অবস্থিত বায়োলজিকাল সরঞ্জাম উৎপাদনকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল বায়োটেক গ্রুপ-সিএনবিজি’র করোনা টিকা-সিনোভ্যাক।

চীন এই প্রথম করোনা টিকা-সিনোভ্যাক গণহারে প্রয়োগের অনুমোদন দেয়ার আগেই এই মাসে টিকাটি রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রয়োগ শুরু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেইসাথে, সিনোভ্যাক-এর ১২ লাখ ডোজ কেনার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান।

চীনে গণহারে সিনোভ্যাক প্রয়োগ শুরু হলেও এর কার্যকারিতার নেতিবাচক খবরে দেখা দিয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকির শঙ্কা। করোনা টিকাদান কর্মসূচি শুরুর আগের দিন মঙ্গলবার খোদ সিনোভ্যাকের পক্ষ থেকে জানানো হয় তাদের তৈরি করোনা টিকা মাত্র ৫০.৪ শতাংশ কার্যকর। যদিও, গত সপ্তাহেই সংস্থাটি দাবি করেছিলো তাদের টিকা প্রথমিক এবং সঙ্কটজনক সংক্রমণের মধ্যে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে ৭৮ শতাংশ কার্যকর। এতে টিকার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গবেষকরা। সমালোচনা এড়াতে সিনোভ্যাক এবার দাবি করেছে, ব্রাজিলে চালানো হিউম্যান ট্রায়ালে দেখা গেছে এই টিকা উপসর্গযুক্ত সংক্রমণকে ঠেকাতে সক্ষম।

করোনার মোকাবিলায় ভালো প্রতিরোধ গড়ার দাবি করে ব্রাজিলে হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করে সিনোভ্যাক। কিন্তু গবেষণা থেকে প্রাপ্ত নতুন ফলাফলে দেখা যায়, শুরুতে যা আশা করা হয়েছিলো তার সাথে বাস্তবতার ফারাক অনেক। সেইসাথে, টিকার কার্যক্ষমতাও কম হওয়ায় প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন ব্রাজিলের গবেষকরা। ভ্যাকসিন নিয়ে এই সৃষ্ট এই জটিলতার সূত্র ধরে চীনের সাথে কূটনৈতিক টানাপড়েনে জড়িয়ে পড়েছে ব্রাজিল।

সংক্রমণের গুরুতর হুমকিতে আছে এমন জনগোষ্ঠীর জন্য করোনার প্রতিষেধক উদ্ভাবনে জরুরি ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি নেয়া হয় এ বছরের জুলাইয়ে। ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ৪৫ লাখ প্রতিষেধক তৈরির জোর নির্দেশনা দেয়া হয় সেসময়। এই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় এ পর্যন্ত চীনের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান করোনা টিকা উদ্ভাবনের ঘোষণা দিয়েছে।

You may also like

অনৈতিক কাজে ক্ষমতা খাটাবেন না নয়া মেয়র

অন্যায়-অনৈতিক কাজে ক্ষমতাকে ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে