এমসি কলেজে গণধর্ষণ মামলায় ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি সাইফুরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। সকাল ১১ টায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান থানার ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য এ চার্জশিট দেন সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল কাশেমের আদালতে।

পুলিশ জানায়, মামলায় গ্রেফতার ৮ আসামির সবাইকে কমবেশি অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। অভিযুক্তরা হলো, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উমেদনগরের রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক, হবিগঞ্জ সদরের বাগুনীপাড়ার মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি, সিলেটের জকিগঞ্জের আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম ও সিলেটের কানাইঘাটের গাছবাড়ি গ্রামের মাহফুজুর রহমান মাসুম।

এদিকে, এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার দুই মাস পর গত ২৯ নভেম্বর অভিযুক্ত ৮ আসামির ডিএনএ রিপোর্ট তদন্ত কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে। ডিএনএ রিপোর্টে ৬ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। এর আগে, গত ১ অক্টোবর ও ৩ অক্টোবর ২ দিনে এ মামলায় গ্রেফতার ৮ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহের পর ঢাকায় সিআইডির বিশেষায়িত ল্যাবে তা পরীক্ষা করা হয়। গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ওই গৃহবধূকে গণধর্ষণ করেছে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এ ঘটনায় ৬ জনকে আসামি করে এসএমপির শাহপরাণ থানায় নির্যাতিতার স্বামী মামলাটি করেন।

মামলার পর র‍্যাব ও সিলেট জেলা পুলিশের অভিযানে আটক ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেফতারকৃত প্রত্যেকে পাঁচদিন করে রিমান্ড শেষে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। এছাড়া, গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত চার আসামির ছাত্রত্ব এবং সার্টিফিকেট বাতিল করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপাশি তাদের স্থায়ীভাবে এমসি কলেজ থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন, সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, মাহফুজুর রহমান মাসুম ও রবিউল হাসান।

You may also like

বাঁধাকপি বিদেশে রফতানি, খুশি চাষীরা

বাংলাদেশের বাঁধাকপি এখন বিদেশে রফতানি হচ্ছে। এরই মধ্যে