কেমন ঠোঁটে কতটা সুস্থতা, জানেন কি?

ঠোঁট ফাটা, চামড়া ওঠা কিংবা কালচে রং হয়ে যাওয়া- এ ধরণের সমস্যায় কম-বেশি সবাই পড়েন। আর শীতের শুরুতে এবং শেষ দিকে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে অনেকেরই একেবারে নাজুক অবস্থা হয়ে উঠে।

“ঠোঁটের গড়ন হয়ে থাকে চার ধরনের- পুরু, পাতলা, চওড়া কিংবা ছোট ঠোঁট। আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় ঠোঁটে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কখনো ঠোঁট ফাটে, কখনো বা কালচে ভাব চলে আসে।” আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞরাও জানান, ঠোঁটের খুঁটিনাটি সমস্যা থেকেই যায়, বিশেষ করে শীতকালে এই সমস্যাটা প্রকট হয়। তাই একটু যত্নের প্রয়োজন বলেও মনে করেন তারা।

মসৃণ ও নরম ঠোঁট

রূপবিশেষজ্ঞদের মতে, ঠোঁট ফাটাটা অস্বস্তিকর ও কষ্টদায়ক। শীতে শুকনা আবহাওয়ার কারণেই ঠোঁট বেশি ফাটে। ঠান্ডার কারণে নাক বন্ধ থাকে। এ কারণে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। ঠোঁট ফাটলে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস কম নিতে হবে। তাহলে ঠোঁট ফাটা কমে যাবে। ঘি বা খাঁটি সরষের তেল হালকা গরম করে নাভিতে লাগালে ভেতর থেকে ঠোঁট ফাটার প্রবণতা কমে যায়। এই কাজটি করতে হবে রাতে ঘুমানোর সময়। টানা কয়েক দিন ব্যবহারে শীতের সময় ঠোঁট ফাটা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

ঠোটের শুষ্কতায় মরা চামড়া ওঠতে থাকে। এই সমস্যা দূর করতে রাতে ঘুমানোর সময় বাদাম তেল লাগাতে হবে ঠোঁটে। মরে যাওয়া চামড়া কখনোই টেনে তোলা যাবে না।

ঠোঁট কালচে হয়ে গেলে সেটাও হালকা করার উপায় আছে। এক টেবিল চামচ গোলাপের পাপড়ির পেস্ট আর এক টেবিল চামচ গ্লিসারিন এই সমস্যার সমাধান এনে দেবে। নিয়মিতভাবে ঠোঁটে মাখলে কালচে ভাব দূর হয়ে হালকা গোলাপি আভা চলে আসবে। মিশ্রণটি বানিয়ে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। মাখনের সঙ্গে জাফরান মিশিয়েও ঠোঁটে লাগাতে পারেন। এতে করে লালচে আভা চলে আসবে ঠোঁটে। ঠোঁটকে মসৃণ রাখতেও সাহায্য করবে।

ঠোঁটে স্ক্র্যাব করা

এবার জেনে নেয়া যাক, অনুষ্ঠানাদিতে আপনার ঠোঁট কিভাবে সাজাতে পারেন, খুব বেশিক্ষণ ঠোঁটে লিপস্টিক লাগিয়ে রাখা উচিত না। সবসময় ভালো ব্র্যান্ডের লিপস্টিক ব্যবহার করবেন। পুরু ঠোঁট সাজানোর সময় লিপ পেনসিল দিয়ে ভেতর দিকে আঁকতে হবে। এতে করে ঠোঁটটা আকারে একটু ছোট দেখাবে। পাতলা ঠোঁট সবসময় একটু বাইরের দিক দিয়ে আঁকতে হবে। ছোট ঠোঁট দুই পাশ দিয়ে একটু টেনে আঁকতে হবে। অন্যদিকে, লম্বা ঠোঁটকে আঁকার মাধ্যমে পাশ থেকে কমিয়ে দিতে হবে।

ঠোঁটে অনেকক্ষণ লিপস্টিক রাখতে চাইলে সেটাকে ম্যাট করে লাগান। গ্লসি লিপস্টিক দিয়ে ওপরে গোলাপি রঙের পাউডার দিলেও ম্যাট হয়ে যাবে।
গাঢ় লিপস্টিক দিলেন। ভালো লাগল না। এবার জলপাই তেল বা নারিকেল তেল দিয়ে হালকা করে ঘষে তুলে ফেলুন। অন্য রঙের লিপস্টিক লাগালেও আগেরটার রং বোঝা যাবে না।

জলপাই তেল ও লবণ একসঙ্গে মিশিয়ে স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া লেবু, লবণ, মধু ও জলপাই তেল একসঙ্গে মিশিয়েও স্ক্রাবার তৈরি করা যাবে। সপ্তাহে দুই দিন এটি ব্যবহারে ঠোঁটের মরা চামড়া উঠে যাবে।

এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক কোন রঙের ঠোঁট কোন শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে-

১) গোলাপি ঠোঁটঃ গোলাপি রঙের ঠোঁট শুধু যে দেখতেই সুন্দর তা নয়, এই রঙের ঠোঁট আসলে সুস্বাস্থ্যেরই ইঙ্গিত দেয়।

২) সাদা বা ফ্যাকাশে ঠোঁটঃ ঠোঁটের রং যদি সাদা বা ফ্যাকাশে ধরনের হয়, সে ক্ষেত্রে তা রক্তাল্পতার লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে পাতে রাখুন আয়রন সমৃদ্ধ খাবার-দাবার।

৩) ঠোঁটে গাঢ় লাল বা কালো ছোপঃ যদি এমনটা দেখেন, সে ক্ষেত্রে বুঝতে হবে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির যথেষ্ট ঘাটতি হয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত শারীরিক-মানসিক চাপের ফলেও এমনটা হতে পারে। এই সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন। সঙ্গে মাছ, ভাত, আলু, গাজর, আমন্ড ইত্যাদি পুষ্টিকর খাবার-দাবার নিয়মিত খেতে হবে।

৪) গাঢ় লাল ঠোঁটঃ লিভার, প্লীহার সমস্যা হলে, শরীর মাত্রাতিরিক্ত গরম হয়ে উঠলে ঠোঁটের রং গাঢ় লাল হয়ে যেতে পারে। ঘন ঘন বুক জ্বালা, অ্যাসিডিটির মতো সমস্যার ক্ষেত্রেও এই লক্ষণ প্রকাশ পায়।

বিভি/টিভিএইচ/এনজি

You may also like

বর্ণাঢ্য জীবনে নানা রংয়ের এটিএম শামসুজ্জামান

অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান, আবু তাহের মোহাম্মদ