১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কেমন ছিলো?

ছবি: সংগ্রহ

সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বাংলার মানুষ কতোটা আবেগ নিয়ে স্মরণ করেছিলেন ভাষা শহীদদের? কেমন ছিলো সেই দিনটির আবহ? কতোটা ভিন্ন আমেজ, ভিন্ন দ্যোতনা নিয়ে হাজির হয়েছিলো দিবসটি? আজকের দিনে আমরা সেদিনের শহীদ দিবসের আবেগময় পরিবেশ কতোটা অনুভব করতে পারি?

১৯৭২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারির খবরের কাগজ থেকে জানা যায়, ২১ তারিখ খুব সকালে বঙ্গবন্ধু খালি পায়ে আজিমপুর গোরস্থানে গিয়ে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের উদ্দেশে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এ সময় তাঁর সংগে ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ইউসুফ আলী, খন্দকার মোশতাক, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা তোফায়েল আহমেদসহ অনেকে। সেখানে তাঁরা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত চেয়ে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন।

পাঞ্জাবি ও কালো মুজিব কোট পরে সংগীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু যখন শহীদ মিনারে আসেনন, তখন তাঁদের উপরে পুষ্পবৃষ্টি হচ্ছিলো। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম একুশে ফেব্রুয়ারির সকালে ভাষা আন্দোলনের পীঠস্থান শহীদ মিনারে বঙ্গবন্ধু  বলেন, ‘লাখো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছি। এই আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়।’ তিনি বলেন, ‘যতোদিন পর্যন্ত শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা না হচ্ছে, ততোদিন সংগ্রাম চলবে। বাংলার বিরুদ্ধে এখনও ষড়যন্ত্র চলছে। সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দল-মত নির্বিশেষে প্রস্তুত হয়ে যান।’

সাংবাদিক কে. জি. মুস্তফা’র (প্রয়াত) সংগে ৫২’র স্মৃতিচারণা শীর্ষক এক সাক্ষাতকারে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘পাকিস্তানের স্রষ্টা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ’র মনে বাঙালিদের জন্য দরদ ছিলো না। বাংলাদেশকে তিনি পশ্চিম পাকিস্তান এবং ব্যবসায়ী মহলের উপনিবেশ বানাতে চেয়েছিলেন। ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষে বাঙালিরা যখন মরেছে, তখন জিন্নাহ তাদের দেখতে আসেননি।’

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভেঙে আমতলায় সভা। ছবি: লিবারেশনওয়ার বিডি

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর দালালদের এজেন্টরা প্রশাসনকে কব্জা করতে তাড়াহুড়ো করে ঢাকায় চলে এলো, উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘তারা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উসকানি দেয় এবং উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টা চালায়। বাঙালি জাতিকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করে, তারা প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে আঘাত করে। ভাষা আন্দোলনের সময় তারা শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে দেশ থেকে বহিষ্কার করে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘তখন ছাত্রলীগ, সাংবাদিক, লেখক, ছাত্রসমাজ এই প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করে। না করলে তাদের ভবিষ্যত অন্ধকারে নিমজ্জিত হতো। প্রথম গণপরিষদের সদস্য ধীরেন দত্ত গণপরিষদের ভেতরে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তোলেন। ষড়যন্ত্রকারীদের দালালরা তাকে সমর্থন না করে লিয়াকত আলীকে সমর্থন দিয়েছিল।’

বঙ্গবন্ধু জানান, ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সংগে ছিলেন ন্যাপের নেতা মহিউদ্দিন। তখন তিনি ছাত্রদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলেন এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে অনশন ধর্মঘট শুরু করবেন বলেও জানান। তিনি বলেন, ‘মহিউদ্দিনও আমার সংগে অনশন ধর্মঘট করবে বলে জানায়।’

সেই সময়কার প্রহরায় রত পুলিশ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বঙ্গবন্ধু আরও বলেন, ‘তারা রাতে ছাত্র-নেতাদের নিয়ে আসতে সহায়তা করেছেন।’ এরপর কোনও সূত্রে বিষয়টি বুঝতে পেরে সরকার বঙ্গবন্ধুকে ফরিদপুর কারাগারে স্থানান্তরিত করেছিলো।

বিভি/ইই/এমএইচকে

You may also like

করোনায় ৭ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৬১৯ জন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও সাত জন