বেরিয়ে আসছে কাউন্সিলর রাজিবের নানা অপকর্ম

মাদক ও অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজিবের নানা অপকর্ম বেরিয়ে আসছে। নিজের ক্যাডার দিয়ে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর ও বছিলা এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতেন রাজিব। যুবলীগের মহানগর উত্তরের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রাজিব ও তার সহযোগীরা দিনকে দিন আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন ক্ষমতার দাপটে। বাজার দখল, জায়গা দখল, বাস, অটোরিক্সা এবং ইটাখোলা থেকে নিয়মিত চাঁদা তুলতেন রাজিবের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত শাহ আলম, অভি ফারুক ও রনি।

মোহাম্মদপুরে মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির ১ নম্বর সড়কের ৩৩ নম্বর এই বাড়িটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। কদিন আগেও বাড়িটির সামনে নেতাকর্মীদের ভিড় লেগে থাকলেও এখন যেনো ভুতুড়ে পরিবেশ।
RAB এর হাতে আটক আলোচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজিবের বাড়ি এটি। বছর ছয়েক আগেও ছোট্ট ভাড়া বাসায় থাকলেও এখন এলাকার বিলাশবহুল ডুপ্লেক্স বাড়িসহ অঢেল সম্পত্তির মালিক রাজিব। শনিবার রাতে আটক হওয়ার পর থেকে রাজিবের বাড়িতে শুনশান নিরবতা।

ছয় বছরে কোন যাদুতে এতো সম্পদের মালিক হলেন রাজিব? অনুসন্ধানে পাওয়া যায় নতুন নতুন তথ্য। মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ থেকে বছিলা সড়কের বাম পাশে রয়েছে অন্তত ২৫ ইট পাথরের ব্যবসা কেন্দ্র। প্রতিটি থেকে ৪০-৫০ হাজার টাকা করে ভাড়া তোলেন রাজিবের অন্যতম সহযোগি আশিক মাহমুদ রনি। যদিও কাউন্সিলর রাজিব আটকের পর লাপাত্তা রনি।

এই এলাকার বাসস্ট্যান্ড, অটোরিক্সা ও অস্থায়ী দোকান থেকে নিয়মিত মাসোহারা নিতেন রাজিবের আরেক বিশ্বস্ত সহযোগি ফারুক খান অভি ও শাহ আলম হোসেন জীবন। যদিও নেতা আটকের পর তার সহযোগী সবাই আত্মগোপনে। কাটাসুরের নামাবাজারের নিয়ন্ত্রণেও কাউন্সিলর রাজিব। এক বছর আগে বাজারের ১৬০ জন সদস্যের কাছ থেকে কমিটির মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা করে নিয়েছেন রাজিব। জায়গা কিনে ঘর তৈরি করলেও ব্যবসায়ীদের তা বুঝিয়ে দেননি তিনি।

এখানেই শেষ নয়, রহিম ব্যাপারীর ঘাট মসজিদের সামনে প্রবাসী আব্দুল হকের জায়গা দখলের অভিযোগও আছে কাউন্সিলর রাজিবের বিরুদ্ধে। জায়গাটির মালিকানা দাবিদার দুই পক্ষের ঝামেলা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর ছবি এবং যুবলীগের ব্যানারে দখলে রাখা হয়েছে বিশাল এই জায়গাটি। এছাড়া, মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় জায়গা ও দোকান দখল আর চাঁদাবাজি করে ছয় বছরে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায় রাজিবের বিরুদ্ধে। যদিও এলাকায় নিজেকে পরিচয় দিতেন জনতার কাউন্সিলর হিসেবে। এসব পুঁজি করে দামি দামি গাড়ি এবং বিলাশী জীবনযাপন করতেন এক সময়ের টং দোকানি তারেকুজ্জামান রাজিব।

 

You may also like

ঘূর্ণিঝড়ে পশ্চিমবঙ্গে ৬০ হাজার ঘর-বাড়ির ক্ষতি

বুলবুলের আঘাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১