বঙ্গবন্ধুর খুনী আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর

অবশেষে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর খুনী বরখাস্ত হওয়া ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদের। কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে রাত ১২টা এক মিনিটে ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এদিকে, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, মাজেদের ফাঁসি বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিকর। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর খুনীদের বিচারের জন্য অপেক্ষায় ছিলো জাতি। ২০১০ সালে বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর হলে কিছুটা স্বস্তি আসে প্রানে। এরপর আবারো অপেক্ষা। পালিয়ে থাকা খুনীদের ধরতে বিভিন্ন দেশে নানা দেন দরবারের পর হঠাৎই এ মাসে ধরা পড়ে আত্মস্বীকৃত খুনি আব্দুল মাজেদ।দীর্ঘ ৪৫ বছর পর অপেক্ষার আরেক অধ্যায়ের অবসান হয় অবশেষে। খুনী মাজেদের ফাঁসির খবর শনিবার রাতেই ছড়িয়ে পরে শহরে। করোনার এই ভয়াবহ সময়েও কেরাণীগঞ্জ কারাগারের সামনে জড়ো হন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। রাত ১২টা এক মিনিটে আব্দুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকরের পর কারাফটকের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং করেন, আইজি প্রিজন।  লাশ নিতে রাত ১২টা ২০ মিনেটের দিকে কারাগারে প্রবেশ করেন বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের পরিবারের চার সদস্য।

লাশ দাফন কোথায় হবে তা নিয়ে জটিলতায় কারাগার থেকে লাশ বের করতে দেরী হতে থাকে। জানা যায় স্থানীয়দের কঠোর আপত্তি থাকায়, মাজেদের দেশের বাড়ী ভোলার প্রশাসন কোন প্রকার ঝুঁকি নিতে রাজি হয়নি। পরে তার শ্বশুরবাড়ী নারায়নগঞ্জের সোনারগায়ে দাফনের সিদ্ধান্তে হলে, রাত সোয়া তিনটার দিকে কারাগার থেকে বের করা হয় লাশ। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লাশবাহি আম্বুলেন্সে জুতা ছুড়তে থাকেন। বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত বরাখাস্ত হওয়া ক্যাপেন্ট আব্দুল মাজেদ প্রায় ২৩ বছর পলাতক ছিলেন। তবে ৬ এপ্রিল মধ্যরাতে রিকশায় ঘোরাঘুরির সময় তাকে মিরপুর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা নাকচের ৬ দিন পর কার্যকর হলো ফাঁসি। কলঙ্কমুক্ত হওয়ার সুযোগ পেলো জাতি।

You may also like

ঈদ-উল-ফিতরের ৩য় দিন, ২০২০

সকাল ১০:০৫ : বাংলা চলচ্চিত্র ‘রাজা বাবু’; অভিনয়ে: