দুষ্টচক্রের তৎপরতায় আক্রান্ত চামড়া শিল্প

অর্থায়নের অভাবে দেশের চামড়া খাত এক অভূতপূর্ব সঙ্কটে পড়েছে। একদিকে, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারি ট্যানাররা আন্তর্জাতিক বাজার হারাচ্ছেন, অন্যদিকে, সাভারে শিল্প পার্কে স্থানান্তরের কারণে বহুমুখী সমস্যায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা কয়েক বছরের পাওনা বাকি রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। আর হাতে টাকা না থাকায় খুচরা পর্যায় থেকে ঠিক দামে চামড়া কিনতে পারছেন না আড়তদারা। এই দুষ্টচক্রে পড়ে সব মিলিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে বড় কর্মসংস্থানের এই রপ্তানিমুখী খাতে।

রাজধানীর হাজারিবাগে যতদিন চামড়া শিল্প ছিলো, তখন তা নিয়ে দেশের ভেতরে সমালোচনা থাকলেও রপ্তানি ছিলো রমরমা। এখন অনেকটা বাধ্য করে ট্যানারি মালিকদের সাভারের অসম্পূর্ণ শিল্প পার্কে স্থানান্তরে বাধ্য করার পরে পরিবেশ দূষণের ইস্যুটি আন্তর্জাতিক নজরে আসে। ফলে বাংলাদেশের চামড়া ইউরোপসহ অনেক দেশে প্রবেশ করতে পারছে না। অন্যদিকে, চীন, কোরিয়ার মত বাধা বাজারেও এখন চলছে দরপতন।

অন্যদিকে, অপ্রস্তুত শিল্প পার্ক স্থানান্তর করতে ট্যানারদের যে বাড়তি বিনিয়োগ করতে হয়েছে তাতেও অর্থসঙ্কটে পড়তে হয়েছে তাদের। সাভারের শিল্প পার্কে ১৭৭টি ট্যানারির কাজ করার কথা থাকলেও এখনো কাজ শুরু করতে পারেনি পঞ্চাশটি প্রতিষ্ঠানও। যারা কাজ শুরু করতে পারেনি তারা কয়েক বছরের পাওনা বাকি রেখেছেন আড়তদারদের। তাই এবার ঈদে আড়তদারদের হাতে টাকা না থাকায় চামড়ার দামে ধস নামে।

বছরের পর বছর ট্যানার আর আড়তদারদের এই পুঁজিসঙ্কটের দুষ্টচক্র থেকে দেশের চামড়া খাতকে বাঁচাতে সহজ অর্থায়ন নিয়ে সরকার এগিয়ে না এলে পুরো অর্থনীতিকে এর মাসুল দিতে হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সাইমুল হক, বাংলাভিশন, ঢাকা।

You may also like

দলীয় সরকারের সব নির্বাচনই প্রশ্নবিদ্ধ: সুজন

দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় জানিয়েছে