বাংলাদেশের কাছে বিমান বিক্রি করতে আগ্রহী ফ্রান্সের এয়ারবাস কোম্পানি

বাংলাদেশে গত সাত বছরে প্লেনের যাত্রী সংখ্যা দ্বিগুন হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ১০ বছরে দক্ষিন এশিয়ার যাত্রী চলাচলে দ্বিতীয় স্থান দখল করবে বাংলাদেশ। এমনই আশার কথা শুনিয়ে ইউরোপের জায়ান্ট বিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস বাংলাদেশের কাছে আধুনিক বিমান বিক্রির আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী মাহবুব আলী তাদের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে।

এয়ারবাস। উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী ইউরোপের অন্যতম জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান। ফ্রান্সের তুলুস শহরে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠান নির্মান করছে পৃথিবীর বিখ্যাত উড়োজাহাজ কোম্পানীগুলোর প্লেন। বিভিন্ন জায়গায় যন্ত্রাংশ তৈরী করে এ স্থানে এনে বানানো হয় পূর্নাঙ্গ প্লেন। এ যেনো এক মহাযজ্ঞ।

বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা এয়ারবাসের সদর দপ্তরে কর্মীরা ব্যস্ত প্লেন বানানো নিয়ে। ছেলেবেলার প্লেন বানানো নয় বিশাল আকৃতির বিমান, যা সত্যিই উড়তে পারে আকাশে।

এয়ারবাসের সিনিয়র সেলস ডিরেক্টর শীল শুক্লা বিমান শিল্পের উপর এক উপস্থাপনায় জানান, পুরো বিশ্ব জুড়ে বাড়ছে বিমান ব্যবহারের হার। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের চেয়ে পিছিয়ে নেই। বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে ২০১৭ সালে যাতায়াত করেছে ১০ লাখ ২০ হাজার যাত্রী, যেখানে ২০১০ সালে যাত্রী ছিলো ৭ লাখ ৬০ হাজার। আর বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে ২০১৭ সালে ছিলো ৪০ লাখ ৩০ হাজার যাত্রী, আর ২০১০ সালে তা ছিলো ২০ লাখ ৪০ হাজার। এছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত হয়েছে ২০১৭ সালে ৫০ হাজার ৫০ লাখ, যা ২০১০ সাল হয়েছিলো ২০ লাখ ৪০ হাজার যাত্রী।

এয়ারবাসের সিনিয়র সেলস ডিরেক্টর শীল শুক্লা বাংলাভিশনকে সাক্ষাৎকারে আরো বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার বাড়ছে। সে অনুযায়ী প্লেনের যাত্রীর সংখ্যাও বাড়ছে। আর তাই আমরা বাংলাদেশের ব্যাপারে এয়ারবাস কোম্পানি আগ্রহী। তবে বাংলাদেশকে তার অবকাঠামো ও বিমানবন্দর ঠিক করতে হবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতি মন্ত্রী মো. মাহবুব আলি এয়ারবাসের এ আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ফ্রান্সের সাথে আমাদের সম্পর্ক ভালো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব দেশের সাথেই ভালো সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী। আর তাই এয়ারবাস থেকে বিমান কিনতে কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। পরবর্তীতে আমাদের নতুন বিমান কেনার সময় তাদের আগ্রহ বিবেচনা করবো।

এয়ারবাস কোম্পানীর হিসেবে ২০১৭ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যার মোট ৩০ ভাগ মানুষ প্লেনে যাত্রা করেছে। আগামী ২০৩৭ সালের মধ্যে দেশটির ৮৫ ভাগ মানুষই যাত্রা করবে প্লেনে। সে সময়ে বাংলাদেশের যাত্রীবাহী মোট প্লেন লাগবে ১৫০টি।

শারমীন রিনভী,  srinvy@gmail.com.

You may also like

২২ নভেম্বর, শুক্রবার ২০১৯

সকাল ৮:৩০ : দিন প্রতিদিন বেলা ১০:১০ :