কাল বাজেট, জিডিপির টার্গেট ৮.২ শতাংশ

করোনার ধাক্কা সামলে অর্থনীতি চাঙ্গার টার্গেটে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট ঘোষণা হচ্ছে আগামীকাল। এর আকার হতে পারে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। বিদায়ী বছরের তুলনায় এ বাজেট সাড়ে আট শতাংশ বেশি। আর সংশোধিত বাজেটের চেয়ে বড় সোয়া ১৩ ভাগ। লণ্ডভণ্ড অর্থনীতির ক্ষত সারাতে এবারের বাজেটে বিনাপ্রশ্নেই বাড়ছে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ। তবে, টালমাটাল স্বাস্থ্যখাত নিয়ে হৈচৈয়ের মধ্যেও নতুন দু’চারটি প্রকল্প ছাড়া আসছে না বড় কোনো পরিবর্তন।

বৃহস্পতিবার সংসদে উঠছে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট। ভাইরাস যুগের বাজেট বিবেচনায় অর্থমন্ত্রী বাজেটের শিরোণাম ঠিক করেছেন ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথপরিক্রমার বাজেট’। সব ঠিক থাকলে এ সরকারের মেয়াদে দ্বিতীয় বাজেট দেবেন আ. হ. ম. মুস্তফা কামাল। যার আকার সম্ভাব্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। এর বড় অংশ ৬.৮ ভাগ বরাদ্দ যাবে জনপ্রশাসন খাতে। অন্য খাতের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে ৫.১৪ শতাংশ এবং ৪.৭ ভাগ বরাদ্দ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে।

করোনা পরিস্থিতিতে এবার দেশের প্রবৃদ্ধি হবে সর্বোচ্চ আড়াই থেকে ৪ শতাংশ। সিপিডি এবং অন্যান্য বিদেশি সংস্থাগুলোর পূর্বাভাসও ধরা হচ্ছে কম। এরপরও ৮.২ শতাংশ জিডিপি’র টার্গেট অর্থমন্ত্রীর। এ বাজেটে মূল্যস্ফীতির হার ৫.৪ শতাংশ। ভাইরাস ঝড়ের কারণে এবার সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে স্বাস্থ্য খাত। এ খাতে বরাদ্দ এবার ২৯ হাজার কোটি টাকা। যা সংশোধিত বাজেটের তুলনায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বেশি। বছরজুড়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় এডিপিতে বরাদ্দ দুই লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা। খাতভিত্তিক হিসাবে সর্বোচ্চ ৫২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পরিবহন খাতে।

করোনার প্রভাবে এবার ১১ মাসের রাজস্ব ঘাটতি ৭০ হাজার কোটি টাকা। এরপরও আয়-ব্যয়ের পার্থক্য কমাতে নতুন বাজেটে রাজস্ব টার্গেট ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা। যার ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি আয় করবে এনবিআর। এরপরও ঘাটতি থাকবে ১ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা। এ ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্র থেকে ২০ হাজার কোটি এবং ব্যাংকিং খাত থেকে ৮৫ হাজার কোটি টাকা ধার করবে সরকার। বিদেশি উৎস থেকে নেয়া হবে ৭৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ। স্থান ও চাহিদা সৃষ্টিই মূল চ্যালেঞ্জ। তাই আয় বাড়াতে ভ্যাট আইন কার্যকরে জোরালো নির্দেশনার পাশাপাশি মোবাইলে কথা বলার ওপর ট্যাক্স বাড়তে পারে। একইসাথে বাড়তে পারে কালো টাকা সাদা করার পরিধিও।

বিভিন্ন পক্ষ থেকে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর কথা বলা হলেও তাতে তেমন কান দেননি অর্থমন্ত্রী। আর তাই নতুন বাজেটে সরকারের পরিচালন ব্যয় ধরা হচ্ছে সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকা। অর্থনৈতিক মন্দায় সরকার যখন নানামুখী কর ছাড়ের কথা ভাবছে তখন কিভাবে বড় বাজেটের সমীকরণ মেলাবেন অর্থমন্ত্রী, সেই চমক দেখার অপেক্ষায় বিশ্লেষকরা।

 

You may also like

ফোনালাপ ফাঁসের তদন্ত দাবি এমপি নিক্সনের

ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী