রোহিঙ্গা শিশুরা তাদের মাতৃভাষায় পাচ্ছে শিক্ষার অপার সুযোগ

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শিশুরা তাদের মাতৃভাষায় পাচ্ছে শিক্ষার অপার সুযোগ। বার্মিজ, ইংরেজী ও অংক শেখানো হচ্ছে রোহিঙ্গা শিশুদের। প্রতিটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রয়েছে শিশুদের শিক্ষার এই সুযোগ। নতুন পুরাতন সব শিশুর জন্য উন্মুক্ত এই পাঠশালা। কক্সবাজার ও বান্দরবানের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে রির্পোট করছেন আল ফয়সাল বিকাশ।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি মুসলিম হলেও পোষাক-পরিচ্ছদ, কৃষ্টি-কালচার, সবই মিয়ানমারের রাখাইন সম্প্রদায়ের আদলে। ভাষাগত দিক থেকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার সাথে মিল থাকলেও রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের বার্মিজ ভাষায় পারদর্শী।

মিয়ানমার ছেড়ে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার পর তাদের শিশুদের দেয়া হচ্ছে পড়াশুনার সুযোগ। প্রতিটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রয়েছে রোহিঙ্গা শিশুদের পাঠশালা। তবে বাংলাদেশের মাটিতে পাঠশালা চালু হলেও বাংলা ভাষায় কোন বিষয় পড়ানো হয় না।

মুলত আশ্রিত রোহিঙ্গা শিশুদের পড়ানো হয় বার্মিজ, ইংরেজী ও অংক। শিক্ষকরা জানান, কোন না কোন সময় রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ফিরে যাবে এমন আশায় তারা মিয়ানমারের জাতীয় ভাষা বার্মিজ ভাষায় লেখাপড়া করাচ্ছেন রোহিঙ্গা শিশুদের।

রোহিঙ্গা শিক্ষক মোঃ হার্বন জানান, তিনি মিয়ানমারের একটি স্কুলে শিক্ষক ছিলেন। সেখানে যেমন বার্মিজ ভাষায় পাঠদান করিয়েছেন এখানে বালুখালী ক্যাম্পে এসেও স্বজাতি শিশুদের বার্মিজ ভাষায় পাঠদান করাচ্ছেন।

এদিকে, নাইক্ষ্যংছড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জানান, রাখাইনের সাথে বাংলাদেশের সংস্কৃতির কোন মিল নেই। বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের সংস্কৃতি-কৃষ্টি সব কিছুর সাথে মিয়ানমারের রাখাইন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মিল রয়েছে।

ভিন দেশে আশ্রয় নিয়েও স্বদেশের প্রতি মমত্ববোধ আর ভাষার প্রতি বিশ্বাস নিয়ে বেড়ে উঠবে রোহিঙ্গা শিশুরা এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

You may also like

ক্ষমতায় এলে বিমানবাহিনীসহ প্রতিটি বাহিনীর প্রয়োজনীয় আধুনিকায়ন করার আশ্বাস

আবারো ক্ষমতায় এলে বিমানবাহিনীসহ প্রতিটি বাহিনীর প্রয়োজনীয় আধুনিকায়ন