গাইবান্ধা করোনার উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জ্বর- সর্দি-কাশিতে এক শিশু মারা গেছে। এদিকে, শেরপুরে শ্রীবরদীতে ১০ বছরের এক শিশু ও ঝিনাইগাতী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এলাকাটি লকডাউন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন। এছাড়া, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক নারীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনার উপসর্গ নিয়ে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে শুক্রবার ভোরে এক শিশর মৃত্যু হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি বিশেষ মেডিকেল টিম তার নমুনা সংগ্রহ করেছে। মা-বাবা ঢাকায় থাকলেও শিশুটি বাড়িতেই ছিল। গত ৫ এপ্রিল কাজ কর্ম না থাকায় বাবা-মা ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরেন। এর মধ্যেই সে আবারো সর্দি জ্বর শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভোরে মারা যায়।

করোনায় আক্রান্ত হয়েছে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার এবং শ্রীবরদী পৌর শহরে দশ বছরের এক শিশু। আইসোলেশনে থাকা করোনা আক্রান্ত শিশুটির নানি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়া। তাঁর সংস্পর্শে যাওয়া ২১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। বৃহষ্পতিবার রাতে পাওয়া রিপোর্টে আয়ার নাতির শরীরে করোনার ফলাফল পজেটিভ পাওয়া যায়। এ নিয়ে শেরপুরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো চারজনে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা: আনোয়ারুর রউফ। এদিকে, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে গত বুধবার করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত সুশান্ত কর্মকার করোনা আক্রান্ত ছিল না বলে নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল্লাহ আল মুরাদ। তার পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টিন আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

চাঁদপুরে প্রথমবারের মতো এক যুবকের করোনা শনাক্তের কথা বৃহস্পতিবার রাতে নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন। ওই যুবক এখন মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে। তার পরিবার ও আশপাশের কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। ৩২ বছর বয়সী ওই যুবকের বাড়ি রংপুরে। সে নারায়নগঞ্জ জেলায় গার্মেন্টেসে চাকরি করতো। গত ৪ এপ্রিল শ্বশুর বাড়ি মতলবে ওই যুবক যাবার পর স্থানীয়দের মাঝে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। এই প্রেক্ষিতে গত ৭ এপ্রিল যুবকের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হলে বৃহস্পতিবার করোনা টেস্টের রিপোর্ট পজেটিভ আসে।
এদিকে, যুবকের করোনা আক্রান্তের দিনেই জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান। এদিকে, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক নারীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় দু’জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ পাওয়া গেছে। গত সাত দিন ধরে জ্বর, সর্দি-কাশিতে ভূগছিলেন ওই নারী। তাঁকে বৃহস্পতিবার রাতেই নগরীর এস কে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন। রাতেই উপজেলার শিলাসী গ্রামের ২৩টি বাড়ি চিহ্নিত করে লকডাউন ঘোষনা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এরআগে বুধবার মুক্তাগাছা এপিবিএন এর এক পুলিশ সদস্যের করোনা শনাক্ত হয়।

গাজীপুরে বিদেশ ফেরতসহ বর্তমানে হোমকোয়ান্টিনে রয়েছে ২২ জন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৫৭০ জন। এখন পর্য্ন্ত করোনা সন্দেহে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশনে ভর্তি রয়েছে ১জন। রংপুরের আট জেলায় নতুন করে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ১শ’ ৯৭ জন। আর ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ১৫ জনকে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ১০ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন চার হাজার ১৮ জন। ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে তিন হাজার ২শ’ ৩৫ জনকে। সাতক্ষীরায় বিদেশ ফেরত নতুন আরো ৮১ জনসহ মোট ৩ হাজার ২৮৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে আরো ১ হাজার ২৬৫ জনকে। আইসোলেশনে রয়েছে ৫ জন।  এদিকে, সাতৰীরা জেলা থেকে মোট ১১৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে পাওয়া ৮টি রিপোর্টেই নেগেটিভ এসেছে। সিরাজগঞ্জে নতুন ৭৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। নতুন হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা ৭৮ জনের মধ্যে ৫০ জনই সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার। সিরাজগঞ্জ জেলায় মোট কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয় ৭৩৮ জনকে। ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ৫৫৬ জনকে।

 

You may also like

সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই লঞ্চে

সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই লঞ্চে। যাত্রীরা মানছেন