আবারো পাহাড় ধসের আতঙ্কে রাঙ্গামাটির পাহাড়বাসী

আবারো পাহাড় ধসের শঙ্কায় ভুগছে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী নিম্নআয়ের মানুষেরা। এবার দফায় দফায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রাঙ্গামাটির পাহাড়বাসীর আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। এদিকে, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি পাহাড় ধসে প্রাণহানি রোধে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে সেখানে বসবাসের বিষয়ে হুঁশিয়ার করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি নন্দন দেবনাথের রির্পোট। প্রতি বর্ষায়ই পাহাড়বাসীর জন্য মুর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়ায় ভূমিধস। কাগজ-কলমে পাহাড় ধসে প্রাণহানির সংখ্যাও কম নয়।

বর্তমানে রাঙ্গামাটি পৌর এলাকার শিমুলতলী, রূপনগর, ইসলামপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত সাড়ে ২০ হাজার পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পাহাড়ের পাদদেশে বাস করছে। খানিক বৃষ্টিতেই মৃত্যুভয় আর অজানা আতংকের মধ্যে থাকতে হয় তাদের। এবার আগেভাগেই এই পাহাড় ধসে প্রাণহানি রোধে কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। কারণ বর্ষা আসতে আর বাকি হাতে গোণা ক’দিন। তাই পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে বসবাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করে সর্তকতামূলক সাইন বোর্ড টানিয়ে দেয়া হয়েছে।

পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে কোন পুর্নবাসন করা হয়নি। ফলে পাহাড়ের পাদদেশে যে যার মত ঘর-বাড়ি তুলে আবারো বাসবাস শুরু করে। পাহাড় ধসের কারনে অতীতের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে রাঙ্গামাটি দু’টি পৌরসভাসহ ১০টি উপজেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে, জানিয়েছেন রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ।

২০১৭ সালে রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে প্রায় ১২০জন প্রাণ হারায়। ২০১৮ সালে নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে ১১জন এবং ২০১৯ সালে কাপ্তাই উপজেলায় মারা যান ৭ জন। এছাড়া, গত কয়েক বছরে পাহাড় ধসে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে ২০১৭ সালে উদ্ধার অভিযানে গিয়ে মৃত্যু হয় ৫ সেনা সদস্যের। বিধস্ত হয় ১২শ’ বাড়ি-ঘর।

 

You may also like

দেশে করোনায়ও তৎপর কিশোর গ্যাং

করোনার এই কঠিন সময়েও দেশের বিভিন্ন শহরে কিশোর