উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি নেই

উন্নতি নেই কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের বন্যা পরিস্থিতির। দুর্ভোগে বানভাসীরা। ত্রাণের অপেক্ষায় তারা। এদিকে, এ সপ্তাহের শেষে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতির আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এখনো কোমর সমান পানিতে ডুবে আছে ঘরবাড়ি। টানা ৯ দিন ধরে বানের পানির সাথে যুদ্ধ করছেন দুর্গতরা। কুড়িগ্রামে বানভাসীদের দুর্ভোগ এখনো চরমে। ত্রাণের জন্য হাহাকার চলছে সেখানে। অনেক জায়গায় পৌঁছেনি ত্রাণ। বন্যায় কুড়িগ্রামের তিনটি পৌরসভাসহ ৫৬টি ইউনিয়নের পাঁচ ৭৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী ৬২ হাজারের বেশি মানুষ। নদী ভাঙনে গৃহহীন হয়েছে পাঁচ শতাধিক পরিবার। আউশ,আমন বীজতলা,পাট,কাউন,তিল,শাকসবজিসহ বন্যায় ক্ষতি হয়েছে ৯ হাজার ৭৮৯ হেক্টর ফসলী জমি। এদিকে, অপরিবর্তিত রয়েছে লালমনিরহাটের বন্যা পরিস্থিতি। প্রধান দুই নদী তিস্তা ও ধরলার পানি কমে বিপদসীমার নিচ দিয়ে বইছে। বাড়ি-ঘর এখনো পানির নিচে। তলিয়ে আছে চর ও দ্বীপ চরের ফসলের ক্ষেত ও রাস্তা-ঘাট। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সঙ্কটে আছে দুর্গতরা।

পানি কমার সাথে সাথে নানা দুর্ভোগের মধ্যে ভাঙন আতঙ্কে যমুনাপাড়ের মানুষ। সিরাজগঞ্জ সদর,কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলায় পানিবন্দি প্রায় দেড় লাখ মানুষ। বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ,উঁচু স্হান ও স্কুল ঘরে আশ্রিত বানভাসিরা আছে শুকনো খাবার,বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের সংকট। ফসলের ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের কৃষকদের। ডুবে আছে পাঁচ উপজেলার ১১ হাজার ১৭ হেক্টর জমির পাট,তিল ও আখ। এ পরিস্থিতির মধ্যেই সপ্তাহের শেষে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতী হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি কমলেও, কমেনি বানভাসীদের দুর্ভোগ। মানবেতর জীবন কাটছে তাদের। এদিকে নাগরপুরে ধলেশ্বরী নদীর ঘোনাপাড়া পয়েন্টে বেড়িবাধটি ভেঙে প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা। জামালপুরে যমুনার পানি কমছে। তবে, অনেক পরিবার এখনও আশ্রয় কেন্দ্র, ব্রীজ ও উচু রাস্তায় অবস্থান করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বানভাসী এসব পরিবারের মাঝে চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। বন্যায় বগুড়ায় বিপাকে যমুনা চরের প্রায় ৫০ হাজার কৃষক। জমির ফসল নষ্ট হওয়ায় দুশ্চিন্তায় তারা। এদিকে পদ্মার পানির তোড়ে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ির কামারখাড়া-হাসাইল সড়কে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা।

You may also like

স্ট্যামফোর্ডের শিক্ষার্থী সিফাতের জামিন

পুলিশের মামলায় জামিন পেয়েছেন স্ট্যামফোর্ডের শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম