উত্তরবঙ্গসহ বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি চরমে, ত্রাণের জন্য হাহাকার

কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর ও গাইবান্ধাসহ কয়েক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি চরমে। প্রথম দফার ধকল না কাটতেই ফের বন্যায় দুর্বিসহ অবস্থায় লাখ লাখ মানুষ। খাবার পানির সংকটে মানবেতর দিন কাটছে দূর্গতদের। তাদের মধ্যে চলছে ত্রাণের হাহাকার। এদিকে, ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আভাস দিয়েছে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আরো ভয়াবহতার দিকে উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি। ফুঁসছে নদী। ডুবছে বাড়িঘর ফসলি জমি। তলিয়ে যাচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। কুড়িগ্রামে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি বিপদসীমার উপরে। ৫৬টি ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক গ্রামের প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি।ভেঙে পড়েছে জেলা-উপজেলা শহরের সাথে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও জ্বালানি সংকটে দূর্গতরা। উঁচু রাস্তা, বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার মানুষ। সদর উপজেলার সারডোবে বিকল্প বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ৩০টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। ত্রাণের অপেক্ষায় হতভাগ্যরা।

উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতি বর্ষণে সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বাড়ছে অস্বাভাবিকভাবে। দুর্ভোগে পানিবন্দি এক লাখ ৬০ হাজার মানুষ। ৩৩ ইউনিয়নের দুশ ১৬ টি গ্রাম বন্যাকবলিত। এর মধ্যেই নদী ভাঙনে সর্বশান্ত শতাধিক পরিবার। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে বইছে। তবে ধরলার পানি বিপদসীমার উপরে।
দুর্গত এলাকাগুলোতে তলিয়ে আছে রাস্তা-ঘাট, ফসলেরখেত, নলকুপ। সরকারি ত্রাণ প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ঘাঘট, করতোয়া সহ বড় বড় নদ-নদীর পানি বাড়ছে হু হু করে। তলিয়ে গেছে নতুন নতুন এলাকা। জামালপুরে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চরম দুর্ঘতিতে সাত উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষ। বাড়িঘর ছেড়ে গবাদিপশুসহ বিভিন্ন স্কুল ও উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে দুর্গতরা। এখন পর্যন্ত ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ তাদের।

নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার অসংখ্য বসতবাড়ি ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হাজারও পরিবার। অন্যদিকে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো জেলার প্রধান নদ-নদী বিপদসীমার উপরে। পানিবন্দী লাখ মানুষ। ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামে মুহুরী ও কহুয়া নদীর বাঁধের ৯টি জায়াগায় ভেঙেছে। প্লাবিত হয়েছে ১৫টি গ্রাম। স্থায়ী বাঁধ নির্মান না হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

নেত্রকোনায় বন্যা পরিস্থিতি আগের মতোই। চার উপজেলায় পানিবন্দি প্রায় তিন লাখ মানুষ। এদিকে, নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় তলিয়ে গেছে হবিগঞ্জের আজিমিরিগঞ্জের পাঁচটি ইউনিয়নের বাড়িঘরসহ বেশ কয়েকটি সড়ক।

You may also like

দেশে করোনায়ও তৎপর কিশোর গ্যাং

করোনার এই কঠিন সময়েও দেশের বিভিন্ন শহরে কিশোর