পাহাড়ি ঢল আর ভারী বৃষ্টিতে বন্যার আরো অবনতি

মধ্যাঞ্চলসহ উত্তরের বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকটে ভুগছে দুর্গতরা। প্রতিদিনই বাড়ছে বিভিন্ন নদ নদীর পানি। বানভাসীদের মধ্যে তা আতংক আরো বাড়িয়েছে। ঢাকার উপকন্ঠ সাভার ঘেঁষা নদ নদীর পানিও বাড়ছে। তলিয়ে গেছে কৃষি জমিসহ নিচু এলাকার ঘর বাড়ি। টাঙ্গাইলে যমুনাসহ সব নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় পৌর এলাকাধীন বিভিন্ন এলাকায়ও পানি ঢুকেছে। এদিকে, মানিকগঞ্জে জেলা শহরের নিচু অঞ্চলে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে শহরের রাস্তা,ঘাট, বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। অব্যাহত পানিবৃদ্ধির ফলে মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙ্গন তীব্র হয়েছে উঠেছে। এ পর্যন্ত দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চার শতাধিক ঘরবাড়ি নদীতে তলিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার বিকালে পদ্মার চরের বাতিঘর খ্যাত বন্দরখোলা ইউনিয়নের নুরুদ্দিন মাদবরের কান্দি এস ই এস ডি পি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনতলা ভবনটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বগুড়ায় বন্যা পরিস্থিতির আবারো অবনতি হয়েছে। বাড়ছে যমুনা নদীর পানি। বাঙ্গালী নদীর পানি বাড়ায় সারিয়াকান্দি পৌরসভার আবাসিক এলাকাও তলিয়ে গেছে।

বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে নাটোরেও । আত্রাই নদীর পানি বাড়ছেই। আতংকে দিন কাটছে বানভাসীদের। যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রসহ শাখা নদ-নদীর পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জামালপুরে চরম দুর্ভোগে প্রায় ১০ লাখ মানুষ। এদিকে, গাজীপুরের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তুরাগ, বংশী ও ঘাটাখালী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কালিয়াকৈর উপজেলার নিন্মাঞ্চল তলিয়ে গেছে। সিরাজগঞ্জে বন্যা চলছে টানা এক মাসের বেশী সময় ধরে। বিভিন্ন এলাকায় তীব্র হচ্ছে নদীভাঙন। এদিকে, কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপূত্র ও ধরলা নদীসহ অন্যান্য নদ-নদীতে পানি বাড়ছে। এক মাস ধরে দুর্ভোগে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ। তিস্তায় পানি কমলেও দেখা দিয়েছে প্রচণ্ড ভাঙন। অন্যদিকে, লালমনিরহাটে তিস্তার পানি কিছুটা কমলেও ধরলার পানি এখনো বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে।

You may also like

সিনহা হত্যায় রুবেল শর্মার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ হত্যা মামলায় দ্বিতীয়