দুর্বিসহ জীবনে পানিবন্দি কোটি মানুষ

দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির তেমন কোন উন্নতি নেই। যদিও ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে স্থিতিশীল আছে পদ্মার পানি। কুশিয়ারা ছাড়া, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মেঘনার সাথে সংযুক্ত প্রধান নদীগুলোর পানি বাড়ছে। ফলে ঢাকা জেলার আশপাশে বন্যা দেখা দিয়েছে। এদিকে, ধরলা ও তিস্তার পানি আবারও বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র। মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ-নদীর পানি বাড়ছেই। ফলে ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলো নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, রাজবাড়ি, শরীয়তপুর, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার অনেক এলাকা পানিতে ডুবে আছে। মুন্সীগঞ্জের ভাগ্যকূল পয়েন্ট এবং মাওয়া পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমার অনেক উপরে। ফলে জেলার টঙ্গীবাড়ী, লৌহজং, শ্রীনগর উপজেলা ও ইছামতি নদীর তীরবর্তী সিরাজদিখান উপজেলার অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ আছে ভোগান্তিতে। এদিকে, তীব্র আকার ধারণ করেছে পদ্মার ভাঙন।

গাজীপুরে তুরাগ ও বংশী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কালিয়াকৈর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে গেছে। বন্যার্তদের জন্য আটটি আশ্রয় কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নওগাঁর বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস দিয়ে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এদিকে, নাজুক অবস্থা নাটোরের প্রায় দুই লাখ বানভাসীর। তাদের অভিযোগ, মুখ দেখে দেয়া হচ্ছে ত্রাণ। তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘটসহ গাইবান্ধার নদ-নদীর পানি কমেও, আছে বিপদসীমার অনেক উপরে। চরাঞ্চলসহ নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি থেকে এখনো পানি সরেনি। রোগব্যাধি দেখা দেয়ায় বিপদ আরও বেড়েছে।

কুড়িগ্রামে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি এখনো বিপদসীমার উপরে। ফলে স্বাভাবিক কাজ-কর্মে ফিরতে পারছে না এখানকার সাড়ে ৩ লাখ বানভাসী। বগুড়ায় যমুনা ও বাঙ্গালী নদীর পানি বিপদসীমার উপরেই আছে। সারিয়াকান্দি উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ এখনো পানিবন্দি। জামালপুরে যমুনার পানি কিছুটা কমেছে। তবে তিন দফার বন্যায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পানিবন্দি থাকা জেলার ১০ লক্ষাধিক মানুষ আছে চরম দুর্ভোগে।

 

You may also like

বাংলাদেশ কারো সাথে যুদ্ধ চায় না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ কারো সাথে যুদ্ধ