নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর গুলি

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদের ভেতরে নির্বিচারে গুলিবর্ষণে দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ৪৯ জন নিহত হয়েছে। অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন সেখানে নামাজ পড়তে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। এই ঘটনার পর বাতিল হয়েছে বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ড তৃতীয় টেস্ট ম্যাচ। এক নারীসহ আটক চারজনের মধ্যে মূল হামলাকারী অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারেন্ট। মসজিদে জুম্মার নামাজে যাওয়া মুসল্লিদের নির্বিচারে হত্যার বিভৎস এই দৃশ্য নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের কেন্দ্রীয় আল-নূর মসজিদের। ওই মসজিদেই নামাজ আদায়ে গিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড সফরে থাকা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা। তবে, মসজিদের ঢোকার আগ মূহুর্তে নারকীয় হত্যাযজ্ঞের সূত্রপাত হওয়ায় নেহাত ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তারা। দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে আবার ফিরে যান ওই মসজিদের কাছাকাছি অবস্থিত হ্যাগলি ওভাল মাঠে। পরে সেখান থেকে নিরাপদে ফেরেন হোটেলে। হামলার প্রস্তুতিসহ বর্বর হত্যাযজ্ঞের গোটা ঘটনাটি ফেসবুকে লাইভ স্ট্রিমিং করে হামলাকারী। এতে, মসজিদের ভেতরে ও বাইরে একাধিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ব্যবহার করতে দেখা যায়। এছাড়া, লিখিত একটি প্রচারপত্রে এই ঘটনাকে “সন্ত্রাসী হামলা” বলেও উল্লেখ করে সে। লিঙ্কউড এবং ক্ট্রিকল্যান্ডে সশস্ত্র হামলাকারিদের উপস্থিতির তথ্য পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয় পুলিশ।

ফরিদ আহমেদ: আমি পাশের রুমেই ছিলাম। রক্তাক্ত অনেককে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেছি; অনেকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলো। রমজান আলি: দুপুর একটা বেয়াল্লিশে ওই ঘটনার সময় জুমার খুৎবা চালছিলো। প্রাণ বাঁচাতে একটি বেঞ্চের নিচে লুকিয়ে ছিলাম। হামলাকারী চলে যাবার পর সবার শেষে মসজিদ থেকে বের হয়েছি। আল-নূর মসজিদে হামলাকারী ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারেন্টকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে পালানোর সময় সেসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।  “ক্রাইস্টচার্চের ডিনস এভিনিউ এবং লিঙ্কউড এভিনিউয়ে অবস্থিত দু’টি মসজিদে হামলা হয়েছে। ঘটনার পরপরই এক নারীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। এরসাথে আরও অনেকে জড়িত নন এমন তথ্য এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এই ঘটনাটি নিউজিল্যান্ডের জন্য একটি কালো দিন উল্লেখ করে হামলাকারীদের কোন ছাড় না দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। “এই ঘটনায় হতাহতদের বেশিরভাগই হয় অভিবাসী, না হয় শরণার্থী। ২০১৩ সালের জরিপে নিউজিল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার মাত্র এক শতাংশ মুসলিম। নিউজিল্যান্ডকে নিজ আবাস হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারা। এরা আমাদেরই অংশ। ওই হামলাকারী নয়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের এদেশে কোন ঠাঁই হবে না। কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।” আপাতত মুসল্লিদের মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আর পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্রাইস্টচার্চের অধিবাসীদের ঘরের ভেতরে থাকতে বলেছেন স্থানীয় পুলিশ কমিশনার।

You may also like

২০ মে, সোমবার ২০১৯

বেলা ১১:১০ : বাংলা সিনেমা বেলা ৩:০৫ :