জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসন ও রাজ্যের মর্যাদা বাতিল

ভারতের সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত করে জম্মু ও কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসনের মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। সেই সাথে, কাশ্মীর ভেঙ্গে করা হয়েছে আলাদা দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ। এমন সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দায় ফেটে পড়েছে দেশটির রাজনৈতিক নেতাসহ সাধারণ মানুষ। এদিকে, এই সিদ্ধান্তের পরপরই কাশ্মীরে জারি করা হয়েছে কারফিউ। আটক করা হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ এবং মেহবুবা মুফতিকে। নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ঘেরা ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য কাশ্মীর। সোমবার হঠাৎ করেই বদলে গেলো এ রাজ্যের ৬৯ বছরের ইতিহাস। এদিন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন নরেন্দ্র মোদীর সরকার সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করলে স্বায়ত্বশাসনের বিশেষ মর্যাদা ও রাজ্যের মর্যাদা হারায় কাশ্মীর। বাতিল হলো আলাদা সংবিধান, আলাদা পতাকা।

এখানেই শেষ নয়, কাশ্মীর ভেঙ্গে করা হলো জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ নামে আলাদা দুটি অঞ্চল। সকালে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বাসায় ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে বৈঠক শেষে ধারা বিলুপ্তির প্রস্তাব যায় প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দের কাছে। তাতে প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত অনুমোদনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানকভাবে বাতিল হয় জম্মু ও কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসনের মর্যাদা। পার্লামেন্টের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, এখন থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের অধিনে পরিচালিত হবে জম্মু ও কাশ্মীর। এই ঘোষণার পরপরই পার্লামেন্টে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একে, জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের সাথে চরম অবিচার বলেছেন কংগ্রেস নেতা গুলাম নবী আজাদ। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারতের সংবিধানকে হত্যা করেছে বিজেপি সরকার। পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভ করেন কাশ্মীরের আঞ্চলিক দলের সদস্যরা। কেবল পার্লামেন্টই নয়, বিক্ষোভে উত্তাল রাজধানী নয়াদিল্লী। বিকেলে কাশ্মীরের সমর্থনে নয়াদিল্লীর রাস্তায় নেমে আসে কয়েকশ’ মানুষ। ক্ষোভ জানিয়েছেন কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিও। এক টুইট বার্তায় একে ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে সবচে কালো দিন হিসেবে উল্লেখ করেন।

বলেন, এই পদক্ষেপ অবৈধ ও অসাংবিধানিক। তবে এই টুইট বার্তা প্রকাশের কয়েক ঘন্টা পরই গৃহবন্দি দশা থেকে আটক করা মেহবুবা মুফতি, ওমর আব্দুল্লাহসহ প্রভাবশালী কয়েকজন নেতাকে। ভারতেই এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তানও। একে অবৈধ উল্লেখ করে পাল্টা পদক্ষপের হুঁশিয়ারী দিয়েছে ইসলামাবাদ। বিক্ষোভে উত্তাল পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরও। হঠাৎ করে ঘোষণা আসলেও, এর পটভূমি তৈরি হয়েছিলো কয়েকদিন আগেই। পরিস্থিতি ঘোলাটে হবার শঙ্কায় শুক্রবার জম্মু ও কাশ্মীরে মোতায়েন করা হয় আধাসামরিক বাহিনীর দশ হাজার সদস্য। পর্যটকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এলাকা ছাড়ার। বন্ধ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্ধ মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সংযোগ। নিষিদ্ধ করা হয়েছে জনসমাগম। এমন পরিস্থতিতিতে, বিশ্লেষকদের আশংকা, কাশ্মীরের সাথে ভারতের যে ভঙ্গুর সম্পর্ক এতোদিন চলে আসছিলো, এই আইন বাতিলের মাধ্যমে এবার তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

 

You may also like

১৭ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার ২০১৯

বেলা ১২:০৫ : বাংলা সিনেমা বিকেল ৫:০০ :