আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বারবার বঞ্চিত নারীদের মানুষ হিসেবে প্রাপ্য অধিকারের কথা মনে করিয়ে দেয়ার দিন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ১৮৫৭ সালে সূতা কারখানার নারী শ্রমিকদের সম অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে দিবসটির সূত্রপাত হলেও আজ তা সার্বজনিন। নানা ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার পরও সমাজে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কতটা বদলেছে? সমাজের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠি নারী। তারপরও প্রতিদিন সফলতার চেয়ে নারীর প্রতি সহিংসতার খবরই যেন বেশি পাওয়া যায়। কখনো ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে, কখনো বা পুরুষ শাসিত সমাজের আধিপত্য রক্ষায়, বারবার বলি হয় নারীর অধিকার। আইন ও শালিশ কেন্দ্রের তথ্য মতে গত বছর ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১২শ টি, অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে একশ ৪৫টি, যৌন হয়রানি ও সহিংসতার ঘটনা দুইশ ৪৭টি যা তার আগের বছরের দ্বিগুন।

আর চলতি বছরে এরই মধ্যে ৯৮ টি ধর্ষণের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে একজনের, আত্মহত্যা করেছেন আরো একজন। যৌন হয়রানির ১৬টি ঘটনায় একজন আত্মহত্যা করেছেন। এছাড়া স্বামীর হাতে ১৭ গৃহবধু খুন এবং যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনে চারজন নারী মারা গেছেন। এতকিছুর পরও অদম্য নারীশক্তি। ব্যবসা থেকে শুরু করে রাজনীতি, নিরাপত্তাকর্মী থেকে শুরু করে মহাকাশ গবেষণা, কোথায় নেই তাদের সফল পদচারণা? সমাজে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন গৃহিনীরা। পরিবারকে এক সূতায় বেঁধে রাখার পাশাপাশি শিশুকে যোগ্য মানুষে রূপান্তরের কারিগর তারা। তারপরও মেলে না স্বীকৃতি।  কেউ কেউ আবার পরিবার আর ব্যবসা দুটোরই হাল ধরেছেন শক্তহাতে। অনেকের মতে ভুমিষ্ঠ হওয়ার আগে থেকেই শুরু হয় নারীর প্রতি বৈষম্য, আর তা চলে কবরে যাওয়া অবধি। মানসিকতায় পরিবর্তন আনা না গেলে নারী দিবস উৎযাপনের তাৎপর্য় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েই থাকবে। কেউ না বদলালেও নিজেদের জন্য লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে নারীকেই।

 

You may also like

সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই লঞ্চে

সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই লঞ্চে। যাত্রীরা মানছেন