লেবাননে বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশিসহ শতাধিক মৃত্যু

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে এপর্যন্ত তিন বাংলাদেশিসহ একশোরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশের ২১ নৌসেনাসহ আহত চার হাজারের বেশি। এখনো একশোরও বেশি নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশংকা করা হচ্ছে। তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে জড়িতদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছে লেবানন সরকার। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বন্দর এলাকা। মুহুর্তেই ধূলায় মিশে যায় আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার বহু স্থাপনা। বিস্ফোরণটি এতোই শক্তিশালী ছিলো যে, এর কম্পন অনূভুত হয়েছে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দূরের পূর্ব ভূমধ্যসাগরের দ্বীপ সাইপ্রাস থেকেও। বিস্ফোরণ স্থলের আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিলো হতাহতদের দেহ। ধ্বংস্তুপের চারদিকে কেবল রক্তাক্ত, আতঙ্কিত মানুষের ছুটোছুটি, কান্না, আহাজারি আর বাঁচার আকুলতা। এতো আহত মানুষকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে বৈরুতের হাসপাতালগুলোকে। আহত অনেক মানুষকে পাঠানো হয় শহরের বাইরের হাসপাতালে।

বিস্ফোরণে রাজধানীর বেশিরভাগ ভবনের জানালা-দরজার কাচ ভেঙে যায়। ধসে পড়ে অনেক ভবনের ব্যালকনি। ধসে পড়া স্থাপনাগুলোর নীচে এখনো অনেকে চাপা পড়ে থাকার আশংকা করা হচ্ছে।  জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীবাহিনীর জাহাজ ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বন্দরে থাকা বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের জাহাজ। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এক সদস্যের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের জন্য ছয় বছর ধরে বন্দরের গুদামে কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই দুই হাজার সাতশ’ টন এমোনিয়াম নাইট্রেট মজুদ রাখাকে দায়ি করেছে লেবানন সরকার। এর দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব। এই পরিস্থিতিতে দুই সপ্তাহের জরুরি অবস্থা দিয়ে সেনাবাহিনীর হাতে নিরাপত্তার দায়িত্ব হস্তান্তরের পরামর্শ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম মিলিটারি কাউন্সিল। রিফাত জামান,বাংলাভিশন নিউজ ডেস্ক।

You may also like

২৯ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার ২০২০

সকাল ৮:৩০ : অনুষ্ঠান ‘দিন প্রতিদিন’। বেলা ১১:০২