অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই। রবিবার সন্ধ্যা সাতটা পঁচিশ মিনিটে ঢাকা সিএমএইচে মারা যান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এ আইন কর্মকর্তা। মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলতি মাসের ৩ তারিখে জ্বর অনুভূত হলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে ভর্তি করা হয় সিএমএইচ হাসপাতালে। পরদিন তাঁর করোনা পজিটিভ আসে। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। পরে ২৫ তারিখ তাঁর করোনা নেগেটিভ এলেও শরীর খুবই দুর্বল হয়ে পড়ে। নেয়া হয় আইসিইউতে। রবিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীণ অবস্থাতেই শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহ পর ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম।

২০১৪ সালের ১৩ জানুয়ারি অ্যাটর্নি জেনারেল পদে পাঁচ বছর পূর্ণ করেন তিনি। এরপর মেয়াদ বাড়ানো হয় তাঁর পদের। মৃত্যু পর্যন্ত প্রায় এক যুগ ধরে এ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এতো দীর্ঘ মেয়াদে আর কেউ অ্যাটর্নি জেনারেল পদে দায়িত্ব পালন করেননি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বিচার, সংবিধানের ৫ম, ৭ম, ত্রয়োদশ ও ষোড়শ সংশোধনী মামলা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ইতিহাসের অংশ হয়েছেন তিনি। মাহবুবে আলমের জন্ম ১৯৪৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার মৌছামান্দা গ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও ১৯৬৯ সালে লোক প্রশাসন বিভাগ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭২ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে আইন পেশা পরিচালনার অনুমতিপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হন। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট এবং ১৯৮০ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৭৯ সালে ভারতের নয়াদিল্লির ইনস্টিটিউট অব কনস্টিটিউশনাল অ্যান্ড পার্লামেন্টারি স্টাডিজ থেকে সাংবিধানিক আইন ও পার্লামেন্টারি বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৮ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহবুবে আলম।  এছাড়াও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ১৯৯৩-৯৪ সালে সম্পাদক ও ২০০৫-২০০৬ সালে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। সবশেষ অ্যাটর্নি জেনারেল পদের পাশাপাশি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন প্রয়াত মাহবুবে আলম। ইমরুল কায়েস, বাংলাভিশন, ঢাকা

You may also like

১৯ অক্টোবর, সোমবার ২০২০

সকাল ৮:৩০ : অনুষ্ঠান ‘দিন প্রতিদিন’। সকাল ১০:৩০