শিরোনাম

বিপদ যেন পিছু ছাড়ছে না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

By নিউজ ডেস্ক

August 25, 2018

আইনের হাত ক্রমশ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দিকে ধেয়ে আসছে। তাঁর ক্যাম্পেইন চেয়ারম্যান পল ম্যানাফোর্ট ও ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেন দোষী প্রমাণিত হওয়ার পর সবার নজর এখন ট্রাম্পের দিকে।

ম্যানাফোর্ট এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি। কিন্তু কোহেন সরাসরি আঙুল তুলেছেন তাঁর সাবেক বসের বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে তিনি একজন পর্নো তারকার মুখ বন্ধ রাখতে অর্থ জুগিয়েছেন—এ কথা স্বীকার করে কোহেন জানিয়েছেন, কাজটা তিনি করেছেন ট্রাম্পের নির্দেশে।

শুধু কোহেন নন, ট্রাম্পের অত্যন্ত বিশ্বাসভাজন আরও একজন তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি হলেন ন্যাশনাল এনকোয়ারার পত্রিকার মালিক ডেভিড প্যাকার। একজন প্লেবয় মডেলের সঙ্গে ট্রাম্পের গোপন প্রণয়কাহিনি যাতে প্রকাশ না হয়, সে জন্য তাঁকে দেড় লাখ ডলার দিয়ে মুখ বন্ধের রফা করেছিলেন প্যাকার। এ কাজটাও করা হয়েছিল নির্বাচনে ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে।

জানা গেছে, শুধু এই প্লেবয় মডেল নয়, আরও অনেক নারীর সঙ্গে ট্রাম্পের গোপন সম্পর্কের কাহিনি অর্থের বিনিময়ে মুখ বন্ধের ব্যবস্থা করেছিলেন প্যাকার। সেসব গল্প ন্যাশনাল এনকোয়ারারের নিজস্ব সিন্দুকে রক্ষিত আছে।

কোহেন এর আগেই জানিয়েছিলেন, প্লে বয় মডেলের কাহিনি কিনে নেওয়ার ব্যাপারে তিনি প্যাকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ ব্যাপারে তাঁর ও ট্রাম্পের টেলিফোনে কথাবার্তার একটি টেপ কোহেন ইতিমধ্যে প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্প বরাবর দাবি করে এসেছেন, মুখ বন্ধের জন্য অর্থ প্রদানের কোনো ঘটনার কথা তিনি জানেন না। বৃহস্পতিবার আদালতে কোহেনের স্বীকারোক্তির পর তিনি জানান, অর্থ প্রদানের কথা তিনি পরে জানতে পেরেছেন। কিন্তু এতে অপরাধের কিছু নেই। অর্থটা তাঁর নিজের পকেট থেকে গেছে, তাঁর ক্যাম্পেইন তহবিল থেকে নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থ প্রদানের কথা স্বীকার করে নিজের জন্য নিজেই বিপদ ডেকে এনেছেন ট্রাম্প। এই যে অর্থ প্রদানের কথা তিনি গোপন রেখেছেন, তা মার্কিন নির্বাচনী আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করতে যদি এ কাজ করা হয়ে থাকে, সেটিও হবে নির্বাচনী আইনের বড় ধরনের লঙ্ঘন।

কোহেন ও প্যাকার উভয়েই ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অনেক কুকর্মের সাক্ষী। তাঁরা মুখ খুললে আরও অনেক ময়লা-আবর্জনাই ফাঁস হবে। তবে ক্ষমতাসীন কোনো প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। ফলে এই মুহূর্তেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে না তাঁকে। কিন্তু এ জন্য তাঁকে বড় রকমের রাজনৈতিক খেসারত দিতে হতে পারে। বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই তাঁকে ‘সহষড়যন্ত্রকারী’ নামে অভিহিত করা শুরু করেছেন। তাঁদের বিশ্বাস, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এটিই হবে তুরুপের তাস। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে যাঁরা বাম ঘেঁষা বলে পরিচিত, তাঁদের অনেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের দাবি উত্থাপন করেছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই দাবি নিয়ে তাঁরা ভোটারদের কাছে যেতে চান।

বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেই অভিশংসনের প্রশ্নটি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, তিনি এত ভালো কাজ করার পরেও কেন তাঁকে অভিশংসিত করা হবে, তা তাঁর বোধগম্য নয়। তবে তাঁকে অভিশংসিত করা হলে আমেরিকার সর্বনাশ হবে। নিজের মাথার দিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করে তিনি বলেন, তাঁর নেতৃত্ব ছাড়া শেয়ারবাজার ধসে পড়বে, সবাই গরিব হয়ে যাবে।

নির্বাচনী বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অভিশংসনের দাবি উত্থাপন করলে তা ডেমোক্র্যাটদের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে। ট্রাম্প তাঁর অনুগত সমর্থকদের মধ্যে এখনো জনপ্রিয়। হোয়াইট হাউসে একের পর এক স্ক্যান্ডালের ঘটনা তাঁদের হতাশাগ্রস্ত করলেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের দাবি উঠলে তাঁরাই ফের চাঙা হয়ে উঠতে পারেন। এ কারণে ডেমোক্রেটিক পার্টির দুই প্রধান নেতা ন্যান্সি পেলোসি ও চাক শুমার অভিশংসনের কোনো কথাই এই মুহূর্তে বলতে নারাজ। পেলোসি বলেছেন, অভিশংসনের দাবি তোলা হবে রিপাবলিকানদের জন্য একটি ‘উপহার’। এমন দাবি তোলার বদলে তাঁর দল সব আমেরিকানের জীবন কীভাবে উন্নত করা যায়, সেদিকে মনোযোগে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন।