ডেঙ্গু আতঙ্কে নগরবাসী

রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবে আতঙ্কিত নগরবাসী। প্রতিদিন গড়ে আট থেকে দশজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। রাজধানীতে গত জুলাই মাসেই আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় এক হাজার। এবার বর্ষা আসার আগে থেকেই বৃষ্টি শুরু হওয়ায় এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হবে বলে আশংকা চিকিৎসকদের। তারা বলছেন, ডেঙ্গুজ্বরের প্রতিষেধক না থাকায় সর্তকতা আর দ্রুত সময়ে সঠিক চিকিৎসা প্রয়োজন।

লাকি ও মাসুদ দম্পতির দুই বছর বয়সী শিশু নাফস। চাঁদ রাতে হঠাৎই যেনো তাদের মন কালো মেঘে ছেয়ে গেলো। প্রচন্ড জ্বরে তাদের সন্তান ছটফট করছে। ঈদের আনন্দ তাদের ফিকে হয়ে গেলো। তারপর থেকেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ছটফট করছে ছোট্ট শিশুটি।

শুধু এই শিশুটিই নয় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে হাসপাতালেগুলোতে। স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার এক জরিপে, রাজধানীর দুই সিটি কপোর্রেশনের ৯৩ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৭ টিকে এডিস মশা বিস্তারে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করেছে। এর জন্য মূলত দায়ী মানুষের অসচেতনতা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নর্দমার মধ্যে নয় বরং ঘরের ভিতর বা আশপাশে চার পাঁচ দিনের পানি জমে থাকা পরিষ্কার পানিতেই এই মশা জন্ম নেয়। চিকিৎসকরা বলছেন, একজন ডেঙ্গু জ্বরে ব্যক্তির সাধারনত জ্বরের তাপমাত্রা ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রী ফারেন হাইট হয়। এছাড়াও কিছু লক্ষন দেখা যায়। লক্ষণ গুলো রোগীর বয়স অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

রোগের লক্ষণ
1, তীব্র মাথা ও পেট ব্যাথা
2, ত্বকে লাল রেশ
3, নাক ও মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়লে
4, বমির সাথে রক্ত আসলে
4, পায়খানা কালো হলে
5, শ্বাসকষ্ট হলে

এ বছর বর্ষার অনেক আগে থেকেই বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ডেঙ্গুতে রোগীর আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন উৎস বন্ধ না করতে পারলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকেই যাবে।

যুথিকা ঘোষ, বাংলাভিশন, ঢাকা

You may also like

রোনালদোর লাল কার্ডের দিনেও জিতল জুভেন্টাস

জুভেন্টাসের হয়ে অভিষেকেই লাল কার্ড দেখলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।