রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ছয় বছর আজ

সাভারে রানা প্লাজা ধসের ছয় বছর পার হয়েছে। ভালো নেই সেই বিপর্যয়ের আহতরা। নিহতদের স্বজনদেরও দেখার কেউ নেই। শারিরীক- মানসিক অক্ষমতা বেকার করে রেখেছে আহতদের অর্ধেকেরও বেশি শ্রমিককে। বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণায় আস্থা রাখা হতভাগ্যরা ভুগছেন ধুকে ধুকে। কোথাও থেকে মেলেনি প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা।

২০১৩ সালে বিশ্ব কাঁপানো সাভারের রানা প্লাজা ধস যে ১১৩৪ জন তরতাজা শ্রমিককে মেরে ফেলে, তাদেরই একজন লাল মিয়া। তার মা সাফিয়া বেগম, তখন ছিলেন প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে লেবাননে। ছেলে হারানোর শোক সহ্য হবে না ভেবে স্বজনরা তাকে জানতে দেননি সেই সর্বনাশের কথা। যোগাযোগবিহীন ছেলের ওপর দুই বছর রাগ পুষে, দেশে ফিরে জানতে পারেন দুনিয়াতে নেই তার বুকের ধন। সেই থেকেই বিলাপ চলছে সাফিয়ার।

রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপের নীচ থেকে প্রাণ নিয়ে ফেরা সালমা আক্তার কারো কাছ থেকে পাননি চিকিৎসার খরচ বা কোন ক্ষতিপূরণ। যদিও সেদিন দূর্ঘটনায় তিনি কর্মক্ষমতা হারানোয় কোন কারখানায় আর চাকরি চালিয়ে যেতে পারেননি। একশন এইডের জরিপে জানা যায়, রানা প্লাজায় আহতদের অর্ধেকেরও বেশি কর্মক্ষমতা হারিয়ে বেঁচে আছেন বেকার জীবনের বিভীষিকা নিয়ে।

রানা প্লাজায় হারিয়েছেন ঠিকভাবে চলাফেরার ক্ষমতা। এখন নেই কোন স্থায়ী উপার্জনের উপায়। মাহমুদুল হাসান বলছিলেন, বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে গিয়ে কেমন বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে তাঁকে। জানালেন- তিনি একা নন এমন বেহাল অবস্থায়। দেশি-বিদেশি চাপের মুখে কারখানার পরিবেশ এখন আগের চাইতে নিরাপদ। কিন্তু শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের জন্য কোন সমন্বিত নীতিমালা না থাকা। কিম্বা শ্রমিকদের সংগঠিত হবার আর শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখার বাস্তবতা বারবার এই প্রশ্নই সামনে নিয়ে আসছে- রানা প্লাজা থেকে কি আদৌ শিক্ষা নিয়েছে বাংলাদেশ?

সাইমুল হক, বাংলাভিশন, ঢাকা।

You may also like

রাশিয়া ও ইউক্রেনকে সংযত থাকার আহ্বান আন্তর্জাতিক আদালতের

রাশিয়ায় আটক থাকা ইউক্রেনের ২৪ নাবিককে মুক্তি দিতে