শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় সুবীর নন্দীকে বিদায়

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দীকে অশ্রুজলে আর ফুলেল শ্রদ্ধায় শেষ বিদায় জানালেন তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও ভক্তরা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সকাল ১১টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধার জন্য নেয়া হলে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। শহীদ মিনার থেকে এফডিসি হয়ে নেয়া হয় রামকৃষ্ণ মিশনে। সেখানে কিছু আনুষ্ঠানিকতার পর সবুজবাগে কালিমন্দির ও শ্মশানে শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে একুশে পদক পাওয়া এই সঙ্গীত শিল্পীর। এর আগে ৬টা ৫০ মিনিটে রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের বিমানে করে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌছে তার মরদেহ।

মনের মাঝে বসে যে প্রেম নিত্য বাজাতো বাঁশি, জগৎ জুড়ে তারই খোঁজে হলেন তিনি পরবাসী। হ্যা, সুবীর নন্দী নিজের গাওয়া গানের মতোই পরবাসী হলেন। হয়তো তিনি টের পেতেন, প্রাণপাখি উড়ে যাবে পিঞ্জর ছেড়ে। ধরাধামে সবই রবে, শুধু একজন সুবীর নন্দী থাকবেন না।

সুবীর নন্দীর শেষ ইচ্ছা ছিলো, তার মৃত্যুর পর কেউ যেন না কাঁদে, তার শবদেহের পাশে সবাই গান শোনায়।” কিন্তু এমন প্রয়ানে কারো কি সুবীর নন্দীকে গান শোনাতে ইচ্ছে হয়? না চাইলেও ভিতর থেকে হুহু করে কেঁদে ওঠে। এক জীবনে আড়াই হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন সুবীর নন্দী। গানগুলো যেমন ছিলো মানসম্পন্ন, তেমনি জয় করেছে সময়কেও।

শ্রদ্ধা জানানোর জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাড়িয়ে ছিলেন ভক্ত-অনুরাগীরা। হাতে ফুল আর মনে ভালোবাসা প্রিয় শিল্পীর জন্য। সুবীর নন্দীকে শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়েছিলেন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শিল্পী সুবীর নন্দী চলে গেছেন জীবনের মায়া কাটিয়ে। কিন্তু সত্যি কী গেলেন? এমন মানুষের কী যাওয়া আছে! সুবীর নন্দী চিরদিন তার ভক্ত-অনুরাগীদের অন্তরে বেঁচে থাকবেন তার গান দিয়ে।

 

You may also like

সংসদ ভবনে অধ্যাপক মোজাফফরের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং সর্বস্তরের জনসাধারনের শ্রদ্ধায় বিদায় নিলেন