অসহনীয় পর্যায়ে রাজধানী ঢাকায় শব্দ দূষণ

অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে রাজধানী ঢাকায় শব্দ দূষণ। গবেষণা বলছে, ঢাকার অধিকাংশ স্থানেই দিনের বেলায় যে শব্দদূষণ হচ্ছে সেটি সহনীয় মাত্রার দ্বিগুনেরও বেশি। আর এই দূষণে সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। যে কোন সুস্থ মানুষের হতে পারে স্নায়ুর চাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, বুকে ব্যথা, মাইগ্রেন, বদহজম, পেপটিক আলসার, অনিদ্রা ও বধিরতা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে একশ’ ডেসিবল মাত্রার শব্দ দূষণ চিরতরে বধিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের যৌথ গবেষণা বলছে, দিনের বেলায় ঢাকার মিরপুর রোডের ধানমণ্ডি ২৭ নং মোড়ে গড়ে শব্দের মাত্রা থাকে ৮৬ ডেসিবল। জিপিও মোড়ে তা ৮৫ ডেসিবল। পল্টন মোড়ে ৮২। ধানমণ্ডি ৬ নং সড়কে ৮০ ডেসিবল এবং প্রেস ক্লাব মোড়ে তা ৭৩ ডেসিবল। যদিও মানুষের জন্য শব্দের সহনীয় মাত্রা ৫৫ থেকে ৬০ ডেসিবল। রাজধানীর অন্যসব বাণিজ্যিক এমনকি আবাসিক এলাকায়ও দিনে, কিংবা রাতে সহনীয় মাত্রার শব্দ মেলেনি।

২০০৬ সালের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এলাকায় যানবাহনে হর্ন বাজানো যাবে না। নীরব এলাকায় হর্ন বাজালে প্রথমে এক মাসের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা। আবার নিয়ম ভাঙলে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা জরিমানা। অন্যসব স্থানে ৬০ ডেসিবল শব্দের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে শব্দের তীব্রতা সহনীয় মাত্রার অনেক বেশি। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার পরও অব্যাহত আছে যানবাহনে বিকট আওয়াজ সৃষ্টিকারী হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক চিকিৎসা সাময়িকী দ্য ল্যানসেট এর প্রতিবেদন বলছে, ৩৩ ডেসিবেল শব্দে মানুষের ঘুম ভেঙে যায়। শব্দ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে না পারলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই চিকিৎসক। ভুক্তভোগী নগরবাসী বলছেন পরিস্থিতি আর কতোটা খারাপ হলে টনক নড়বে প্রশাসনের।

 

You may also like

বিএসটিআই অনুমোদিত ১১ কোম্পানির পাস্তুরিত দুধে সীসা

এবার ১১টি কোম্পানির পাস্তুরিত দুধে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক