বিশ্ব মা দিবস আজ

আনুষ্ঠানিকভাবে হয়তো কখনও প্রকাশ করা হয় না। বলাও হয়ে ওঠে না, “মা তোমাকে ভালোবাসি”। তবে মা ও সন্তানের ভালোবাসা চিরন্তন। নিজের সন্তান হওয়ার পর অনেকে বেশি করে উপলব্ধি করেন তাদের নিজেদের জীবনে তাদের মায়ের অবদান। তারপরও বর্তমানের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা সবচেয়ে বড় এই বন্ধনকেও শিথিল করে দিচ্ছে।এমনকি আলাদাও করে দিচ্ছে একে অপরকে। তবে যে কোন পরিস্থিতিতেই মায়ের স্নেহ সন্তানের জন্যই বরাদ্দ থাকে। বিশ্ব মা দিবসে সব মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

যে শব্দ উচ্চারণের সাথে সাথে হূদয়ের গহীনে আবেগ ও অনুভূতি রচিত হয়, অনাবিল সুখের প্রশান্তি নেমে আসে, সে শব্দটি হলো মা।মা হচ্ছেন মমতা-নিরাপত্তা-অস্তিত্ব, নিশ্চয়তা ও আশ্রয়। মা সন্তানের অভিভাবক, পরিচালক, পথ প্রদর্শক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও সবচেয়ে কাছের বন্ধু।

একটা সময়ে মায়েদের সবটুকু সময় আর মনোযোগের কেন্দ্রে থাকতো সন্তান। তবে একবিংশ শতাব্দীতে এসে মায়ের সেই সময়কে ভাগ করতে হচ্ছে। তাদেরকে যুক্ত হতে হচ্ছে নানা ধরণের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে। শুধু মাতৃত্বের শক্তি দিয়েই সে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব হচ্ছে।

আবার মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্কের যে মিথ, তা তো সব সময় সত্যি না। সন্তানের প্রয়োজন মিটিয়েছেন নিজের চওয়া পাওয়াকে সীমিত করে। সন্তানের মঙ্গলে নিজের সমস্ত শক্তি বিনিয়োগ করে যখন প্রায় ফতুর হয়েছেন, সন্তানের ওপর ভরসা করার সময় হয়েছে, তখন কাউকেই পাশে পাচ্ছেন না -এমন মাও তো আছেন। আবার কোনো মা আছেন, যারা মনে করেন, সন্তানদের নিজস্ব জীবন দরকার। সেই আটপৌরে জীবনে নিজেকে অপ্রয়োজনীয় ভাবছেন। তাই স্বেচ্ছা নির্বাসন বেছে নিয়েছেন।

মাকে শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানানোর নির্দিষ্ট কোন দিন নেই। মায়ের প্রতি ভালবাসা প্রতিটি মুহূর্তের। তারপরও বিশ্বের সকল মানুষ যাতে এক সাথে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে সে জন্য আন্তর্জাতিক মা দিবস পালন করা হয়। ১৮৭২ সালের মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার নিজের মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে ‘মা দিবস’ পালন করেন জুলিয়া ওয়ার্ড নামে এক আমেরিকান নারী। ১৯১৪ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন দিবসটিকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেন। এরপর পৃথিবীর দেশে দেশে মা দিবস পালনের রেওয়াজ ছড়িয়ে পড়ে।

আরিফুল হক, বাংলাভিশন, ঢাকা

You may also like

সাতক্ষীরায় আঙ্গুল কেটে নেয়া ব্যবসায়ী ঢাকায়

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতার চার আঙ্গুল কেটে