দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে

প্রবল বর্ষণ অব্যাহত থাকায় লালমনিরহাটের বন্যা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি নেই। সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বইছে বিপদসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। পানিবন্দী কয়েক লাখ মানুষ। মাইনী নদীর পানি বেড়ে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

ভাটিতে ব্রহ্মপুত্রের পানি বেড়ে যাওয়ায় লালমনিরহাটে কমছে না তিস্তার পানি। দুর্গত এলাকা থেকে নামছে না বানের পানি। চর ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো তলিয়ে রয়েছে। ঘরে-বাইরে থৈ থৈ করছে বন্যার পানি। অনেকে বাড়ি-ঘর ছেড়ে কিছু আসবাবপত্র ও গবাদি পশু-পাখী নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে নিরাপদ কোথাও।

জেলার ১৫ টি ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামে দশ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি। রান্নার চুলা ও নলকুপগুলো ডুবে যাওয়ায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির চরম সঙ্কটে তারা। তিস্তার পানির তোড়ে ধসে যাওয়ার হুমকিতে আদিতমারীর গোবর্ধান স্পার বাঁধটি। মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি স্থাপনাও ধ্বসে গেছে। উজানের পাহাড়ী ঢলে গাইবান্ধার তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্রসহ সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে নদী তীরের অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

অব্যাহত ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার ও ধর্মপাশার সীমান্তবর্তী এলাকা। এতে পানিবন্দী কয়েক লাখ মানুষ। তলিয়ে গেছে ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। রাস্তাঘাটও ভেঙে গেছে কোথাও কোথাও। টানা বৃষ্টিতে নাকাল সিলেটের জনজীবন। দিনভর কখনো গুড়িগুড়ি আবার কখনো মুষলধারে বৃষ্টিপাতের কারণে বাড়ছে সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা, সারি, ধলাই, সারীগোয়াইন নদীর পানি।

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বাঘাইছড়ির ৬টি গ্রামের প্রায় এক হাজার মানুষ। বারিবিন্দু ঘাটের বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে ২৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাহাড়ী ঢলে কাচালং নদীর পানি বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশংকায় স্থানীয়রা। বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির আবারো অবনতি হয়েছে। নতুন ভাবে প্লাবিত হয়েছে প্রায় পাঁচশতাধিক বাড়ি। এদিকে বান্দরবান- কেরানীহাট সড়কে বাজালিয়া এলাকায় সড়কের উপর পানি উঠে যাওয়ায় সারাদেশের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

মাইনী নদীর পানি বেড়ে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ২৫টি গ্রামের হাজারো পরিবার পানিবন্ধি। ১২টি আশ্রয় শিবিরে উঠেছে ৩শ পরিবার। পানিতে জমির ফসল নষ্টের সাথে ভেসে গেছে শত শত পুকুরের মাছ। মেরুং এলাকায় সড়ক ও সেতু পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দীঘিনালার সাথে রাঙামাটির যোগাযোগ বিচ্ছন্ন রয়েছে। কয়েকটি এলাকায় সেনাবাহিনী, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসন দুর্গতদের মাঝে শুকনা খাবারের পাশাপাশি খিচুড়ি বিতরণ করেছে।

 

You may also like

প্রেসক্লাবে ডাকসুর সাবেক নেতাদের মানববন্ধন

আবরার হত্যার দায় নিয়ে সরকারকে ক্ষমতা ছাড়ার আহবান