বন্যা পরিস্থিতি এখনো অবনতির দিকে, দুর্ভোগে লাখো মানুষ

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবল বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতি এখনো অবনতির দিকেই। পানির ঢলে ডুবছে নতুন নতুন এলাকা। বেড়েছে তিস্তা, সুরমা ও ধরলা নদীর পানি। পরিস্থিতির কোন উন্নতি না হওয়ায় এখনো পানিবন্দি লাখো মানুষ। আশ্রয় শিবিরে যাওয়া পরিবারগুলোও আছেন খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে।

প্রবল বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বেড়েছে আশংকাজনভাবে। হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানীতে তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। নিরাপদ আশ্রয়ে যাবার নির্দেশ দিয়েছে আশপাশে বসবাসরতদের। ধরলার পানিও ছাড়িয়েছে বিপদ সীমা।

পাঁচ দিনের টানা বর্ষণে বন্যা ও পাহাড় ধসে লন্ডভন্ড খাগড়াছড়ি। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক, কালভার্ট ও কৃষি জমি। বিচ্ছিন্ন খাগড়াছড়ির দীঘিনালার সাথে রাঙামাটির লংগদুর সড়ক যোগাযোগ। মাইনী নদীর ঢলে টানা ছয়দিন পানিবন্দি দীঘিনালার ২৫ গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ। আশ্রয় শিবিরে ঠাঁই নেয়া তিন শতাধিক পরিবারও পড়েছেন মানবেতর পরিস্থিতিতে। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে অর্ধাহারে-অনাহারে থাকছেন কেউ কেউ। এদিকে, পাহাড় ধসে প্রাণহানির শঙ্কায় সাজেকসহ আশপাশের পর্যটন কেন্দ্রে ভ্রমনে সর্তকতা জারি করেছে প্রশাসন।

বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। পঞ্চমদিনের মতো জেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে সারা দেশের। কুড়িগ্রামের ১৬টি নদ-নদীর পানি বেড়ে প্লাবিত হয়েছে চরাঞ্চলের প্রায় দু’শতাধিক গ্রাম। পানিবন্দী প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি। সদর উপজেলার চর যাত্রাপুরের গার্বহারা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে পাঁচটি গ্রাম। তীব্র রূপ নিয়েছে নদ-নদীর ভাঙনও।

জামালপুরে যমুনার পানিও বিপদসীমা ছাড়িয়েছে। প্লাবিত হয়েছে দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল। সুনামগঞ্জে পানিবন্দি জেলার সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলার লাখো মানুষ। জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে তাহিরপুসহ, দোয়ারাবাজারসহ কয়েকটি এলাকা।

সিলেটে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সব নদ-নদীর পানি। লোভা ও সারি গোয়াইনের পানি কিছুটা কমলেও সুরমা, কুশিয়ারায় বেড়েছে। অনেক এলাকায় রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে ১৮ ইউনিয়নের তিস্তা, ব্রহ্মুপুত্র ও যমুনার ১৬৫ ছোট-বড় চর প্লাবিত হয়েছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। নদ-নদীর তীরে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভাঙন। বন্যা মোকাবেলায় যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় আরো গতি দেখার আশায় বানভাসীরা।

You may also like

বন্যা দুর্গত মানুষ ত্রাণ পাচ্ছে না: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ