খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে লাখো বন্যার্তরা

দেশে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে চরম দুর্ভোগে লাখ লাখ মানুষ। বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটে বানভাসীরা তাকিয়ে আছে ত্রাণ সহায়তার দিকে। উত্তরে তলিয়েছে নতুন নতুন এলাকা। দুর্গত এলাকায় বন্ধ রয়েছে স্কুল কলেজের পাঠদান। জেলা শহরের সাথে অনেক উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

জামালপুরে বন্যার চরম অবনতি হয়েছে। পানিবন্দী জেলার ৩৫ ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ। বাড়ি-ঘর ছেড়ে সড়কে খোলা আকাশের নীচে আশ্রয় নিয়েছেন তারা। গত কয়েক দিনে জেলার বিভিন্ন জায়গায় পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমির পাট, আউশ ধান, রোপা-আমনের বীজতলা, আখ ও সবজীসহ বিভিন্ন ফসল। বন্ধ হয়ে গেছ দু’শ ৫৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

কুড়িগ্রামের পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে। প্লাবিত হয়েছে তিনশ ৯০টি গ্রাম।প্রায় ৩ লাখ মানুষ বানভাসি। ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। কুড়িগ্রাম-নাগেশ্বরী সড়কের উপর হাঁটু পানি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুশ ৭৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মানবেতর জীবন-যাপন করছেন বানভাসিরা। বগুড়ায় সারিয়াকান্দি পয়েন্টে যমুনার পানি এখন বিপদসীমার উপরে। প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল ও চরের নতুন নতুন এলাকা। দুর্গতরা আছেন খোলা আকাশের নিচে।

লালমনিরহাটে নদীর পানি কিছুটা কমলেও বানভাসিদের দুর্ভোগ কমেনি। ৯ দিন ধরে পানিবন্দী চর ও নদী তীরবর্তী মানুষ। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির চরম সঙ্কট। বন্ধ আছে ৪২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান। গাইবান্ধায় তলিয়ে গেছে সাতটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু বাঁধ ও আশ্রয় কেন্দ্রে দুর্গতরা। সিরাজগঞ্জে তলিয়েছে নতুন নতুন এলাকা।  টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে ১৫টি গ্রাম।

সুনামগঞ্জে পানিবন্দি লাখো মানুষ। বন্ধ বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ত্রাণের অপেক্ষায় বানভাসিরা। মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। মনু, কুশিয়ারা এবং ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার উপরে। ঝুকিতে রয়েছে মনু প্রতিরক্ষা বাঁধের অন্তত ৫ থেকে ৬টি জায়গা। পানিবন্দী জেলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী। এসব মানুষ পড়েছেন খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও যাতায়াত সঙ্কটে। বন্ধ রয়েছে তিন উপজেলার ৪৯ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন জায়গায় ভেঙেছে নদী তীর রক্ষা বাধ।

পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির চার উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তীত। নিম্নাঞ্চল এখনো পানির নিচে। বান্দরবানে পানিবন্দী কয়েক হাজার মানুষ। এখনো স্বাভাবিক হয়নি সড়ক যোগাযোগ। খাগড়াছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও শুরু হয়েছে নদী ভাঙন। দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট চলছে।

 

You may also like

আন্তর্জাতিক চক্রান্তে ট্যানারিশিল্প ধ্বংসের মুখে: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অভিযোগ, ট্যানারি