রাখাইনে যেতে চায়না রোহিঙ্গারা

রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহের কারনে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করা যায়নি, এমনটা জানিয়েছেন শরনার্থী ত্রান ও পূনর্বাসন কমিশনার আবুল কালাম। গত নভেম্বরের মতো এবারো রাখাইনে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানায় রোহিঙ্গারা। মুসলিমদের ওপর অত্যাচার বন্ধ, নাগরিকত্ব নিশ্চিত এবং নিজ বাড়িতে থাকার নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা না দিলে ফিরে যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তারা। টেকনাফ প্রতিনিধি আবদুস সালামকে সাথে নিয়ে আরো জানাচ্ছেন আরিফুল হক, ছবি তুলেছেন কামরুল হাসান।

কথা ছিলো বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু হবে। কিন্তু মধ্য দুপুর পর্যন্ত তার কোন লক্ষন নেই টেকনাফের শালবনে ২৬ নম্বর ক্যাম্পে। এখান থেকেই রোহিঙ্গাদের গাড়িতে করে বা নৌকায় করে তাদের ফেরত যাওয়ার কথা ছিলো। এই ক্যাম্পে প্রত্যাবাসন বিষয়ক যে অফিস রয়েছে সেখানে গত দুদিনে ২৩৫টি পরিবারের প্রধানের মতামত নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারও এই কার্যক্রম চলে যদিও এখানে মতামত দিতে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ছিলো হাতে গোনা। যাদেরকে পাঠানো হবে বলে তালিকা করা হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই রাখাইনে ফিরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

শরনার্থী ত্রান ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কেউ মিয়ানমারে ফেরত যেতে রাজী হয়নি। তাদের ইচ্ছার পরিবর্তন হলেই প্রত্যাবাসন সমভব হবে। চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তারা বলেন, সংলাপের কার্যক্রম চলমান রাখতে হবে। মিয়ানমার দূতাবাসের এক কর্মকর্তা ঊপস্থিত হন এখানে। তবে বিষয়টি এখনো পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানান তিনি।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীরর, হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। আগের সাড়ে তিন লাখ মিলিয়ে বাংলাদেশে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। গত বছরের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কথা থাকলেও একজনকেও পাঠানো যায়নি।

You may also like

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে দুই জেএসএস কর্মী খুন

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির-এমএন