জুরাইনে মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় সাদেক হোসেন খোকা

জুরাইনে মা’র কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা। এ সময় তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেয়া হয় । এর আগে, ধূপখোলা মাঠ, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব ও নগর ভবনে অগনিত মানুষের উপস্থিতিতে তার নামাজে জানাযা হয়। প্রতিটিতেই দল-মত নির্বিশেষে হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রমাণ করে তিনি ছিলেন ‘জনমানুষের’ নেতা।

শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী প্রিয় মাতৃভূমিতেই সমাহিত হলেন সাদেক হোসেন খোকা। সবার প্রিয়, খুব কাছের ‘খোকা ভাই’। যে দেশকে স্বাধীন করতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন হাতে, সেই লাল-সবুজের মাটিতেই শেষ ঠিকানা হলো বীর এই মুক্তিযোদ্ধার। বাবার কবরের পাশে, মায়ের কবরে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন বরেণ্য এই রাজনীতিবিদ। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেয়া হয় রাষ্ট্রীয় সম্মাননা।

এর আগে, ধূপখোলা মাঠে সবশেষ নামাজে জানাযা হয়। এই এলাকা থেকেই বারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। মানুষের প্রতি দরদ আর ভালবাসা তাকে পরিণত করে জননন্দিত নেতায়। বিকেল চারটায় তার মরদেহ পৌঁছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব মাঠে। আজীবন ক্রীড়া প্রেমিক এই মানুষটির হাত ধরেই ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব দেশের ক্রীড়াঙ্গণ পেয়েছিল শক্ত ভিত। তিনি ছিলেন অনেক নামি-দামি ক্রীড়াবিদ ও ক্লাবের পৃষ্ঠপোষক।

ব্রাদার্স ক্লাবে জানাযা শেষে খোকার মরদেহ নেয়া হয় তার গোপীবাগের বাসায় । আত্নীয়-স্বজন আর দীর্ঘদিনের প্রতিবেশীরাও শেষবারের মত কাছে পান ঢাকার সাবেক মেয়রকে । এর আগে, বেলা তিনটায় অবিভক্ত ঢাকার সবশেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ নিয়ে আসা হয় নগর ভবনে। নগরবাসীর সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নে এই ভবনে বসেই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছিলেন জনপ্রিয় এই ‘নগর পিতা’।

ঢাকার উন্নয়নে যার ভাবনা ও দর্শন পথ নির্দেশনা দিয়েছে পরবর্তী মেয়রদের। নিথর ‘সাদেক হোসেন খোকা’কে শেষ বারের মতো দেখতে নগর ভবন তখন লোকে লোকারণ্য। না ফেরার দেশে চলে গেলেন সাদেক হোসেন খোকা। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য রাজনীতি, ভিন্ন মতের প্রতিও শ্রদ্ধাবোধ-উদারতার জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

রিশান নাসরুল্লাহ, বাংলাভিশন, ঢাকা

You may also like

ভারতের এনআরসি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: ফখরুল

স্বাধীনতার ৫০ বছরের দ্বারপ্রান্তে এসে দেশ এখন গণতন্ত্রহীন