ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকায় চলছে উদ্ধার তৎপরতা

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে গাছ চাপায় খুলনা, বাগেরহাট ও পটুয়াখালীতে মারা গেছে চারজন। বিধ্বস্ত হয়েছে খুলনা, সাতক্ষীরা ও ভোলাসহ উপকূলবর্তী বিভিন্ন এলাকা। ভেঙে পড়েছে অসংখ্য কাঁচা ঘর-বাড়ি। উপড়ে গেছে গাছপালা। অনেক জায়গায় নেই বিদ্যুৎ সযোগও। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতায় নেমেছে স্বেচ্ছাসেবকসহ বিজিবি, RAB, পুলিশ, নৌ-বাহিনী ও সেনাবাহিনী। বুলবুলের প্রভাবে মোংলা, সাতক্ষীরা, বরগুনাসহ উপকূলীয় এলাকা ভারী বৃষ্টির সাথে দমকা হাওয়া বইছে। বৃষ্টি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও। প্রবল শক্তি নিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। শনিবার রাত তিনটার দিকে বুলবুল লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে সুন্দরবন ও আশপাশের জনপদ। সময়ের সাথে এর তীব্রতা কমতে থাকে। এর মাঝেও উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরের গাবুরায় অন্তত পাঁচ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত এবং অসংখ্য গাছপালা ভেঙে পড়েছে। এছাড়া উপকূলীয় উপজেলায় শতশত বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এর ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন প্রায় পুরো জেলা। নদীতে জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় বেড়িবাধের কয়েকটি পয়েন্ট মারাত্মক ঝুঁকিতে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় এরইমধ্যে ২২হাজার স্বেচ্ছাসেবকসহ বিজিবি, RAB, পুলিশ, নৌ-বাহিনী ও একশ’ সেনা সদস্য উদ্ধার কাজে নেমেছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে শনিবার মধ্যরাত থেকে মোংলা ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝড়ো হাওয়া বইছে। সাগর উত্তাল, তবে পানির উচ্চতা তেমন বাড়েনি। সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে গতরাত থেকেই আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয়দের অনেকেই। বয়ে যাওয়া ঝড়ো হাওয়ার কারনে এখন মোংলা অঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতির তেমন কোন খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিদুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে শনিবার বিকাল থেকেই। খুলনায় গাছচাপায় দীঘলিয়া ও দাকোপে দু’জন নিহত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে কয়রা উপজেলার এক হাজার এবং দাকোপ উপজেলায় অন্তত তিনশ’ কাঁচা-আধাপাকা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বুলবুলের প্রভাবে বরগুনায় প্রবল বাতাস ও বৃষ্টি হচ্ছে। পানির উচ্চতা কিছুটা বেড়েছে। ফলে সব ধরনের নৌ ও বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তাই জনদুর্ভোগও সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, বেড়িবাঁধের বাইরে অবস্থান করা অনেকে উঠেছে আশ্রয়কেন্দ্রে।

 

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হয় বরিশালে, সাথে দমকা হাওয়া। ভোলায় বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘর-বাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গাছপালা উপড়ে পরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। লালমোহন ও চরফ্যাশনে বিধ্বস্ত হয়েছে অর্ধশতাধিক ঘর। আহত অন্তত ১৫জন। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জোয়ারের পানি ঢুকে ১৩টি গ্রাম প্লাবিত। কিছু এলাকায় গাছপালা বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ঝালকাঠীতে বিষখালী নদীর কাঠালিয়া লঞ্চঘাট এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে কয়েকটি গ্রাম ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। বিভিন্ন স্থানে বহু গাছপালা ভেঙ্গে ও উপড়ে পড়েছে। আহত হয়েছে অন্তত তিনজন। পুরো জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। প্রবল বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও পানি বৃদ্ধির কারণে আম্র কেন্দ্রগুলোতে আসা লোকজন বাড়ি ফিরতে পারছে না। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় তিনদিন পর চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেয়া হয়েছে বন্দর জেটিতে জাহাজ প্রবেশের অনুমতিও। এদিকে, শনিবার বিকাল চারটা থেকে বন্ধ হওয়া চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামাও সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়েছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, রবিবার সারাদিন চট্টগ্রামে হালকা থেকে মাঝারি ধরণের বৃষ্টিপাত হতে পারে।

 

You may also like

ভারতের সাথে সুসম্পর্কের কোনো টানাপোড়েন চায় না বাংলাদেশ: কাদের

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন বিলের বিষয়টি সরকার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ